প্রায়ই রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন? এড়াতে কী করবেন
খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সাধারণ খারাপ স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য হলো, দুঃস্বপ্ন আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতে পারে, যার ফলে আপনার রাতের ভালো ঘুম ব্যাহত হয়।
অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভীতিকর হওয়ার কারণে দুঃস্বপ্ন প্রায়শই ঘুমের ঘাটতি বা অনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সবাই জানি, প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও আরামদায়ক ঘুমের কতটা গুরুত্ব। নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখার ফলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। কীভাবে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্নমুক্ত তা নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ‘হেলদিবিল্ডার্জড’এর এক প্রতিবেদনে।
মানসিক চাপ কমান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় আপনার অবচেতন মন যখন মানসিক চাপ বা উত্তেজনা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে, তখনই দুঃস্বপ্নের সৃষ্টি হয়। আর অতিরিক্ত মানসিক চাপের চেয়ে বড় কোনো বিষয় মনকে এতটা উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে না। তাই ঘুমানোর আগে মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলা বা মনকে শান্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক চাপ কমানোর অনেক উপায় বা কার্যকলাপ রয়েছে। যোগব্যায়াম করা থেকে শুরু করে ডায়েরি লেখা—ঘুমানোর আগে এ ধরনের কাজের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমিয়ে দুঃস্বপ্নকে দূরে রাখা সম্ভব।
আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন
নিজের বিছানা ও বালিশ ঘুমের জন্য বেশ সহায়ক হতে পারে। বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে যদি আপনি পরম আরাম অনুভব করেন, তবে ঘুমের মধ্যে ভীতিকর স্বপ্ন দেখার ঝুঁকি কমে যায়। তাই সর্বোচ্চ আরামদায়ক বালিশ, ম্যাট্রেস এবং বিছানা বেছে নেওয়া একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
পাশাপাশি, শোওবার ঘরটিকে আরামদায়ক করে তুলুন। ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা অগোছালো ভাব দূর করুন এবং ঘরের তাপমাত্রা ঘুমের উপযোগী রাখুন। আর যদি শহরের কোলাহলপূর্ণ এলাকায় থাকেন, তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘হোয়াইট নয়েজ’ বা প্রকৃতির শব্দ চালিয়ে রাখতে পারেন।
কাত হয়ে ঘুমান
আপনি কি চিত হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন? আপনার যদি প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখার সমস্যা থাকে, তবে এর জন্য আপনার ঘুমের ভঙ্গি বা শোয়ার ধরন দায়ী হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে চিৎ হয়ে ঘুমালে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে আপনি পিঠের কাছে একটি বড় বালিশ রাখতে পারেন।
ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
অতিরিক্ত খাবার খেয়েই যদি আপনি সরাসরি ঘুমাতে যান, তবে কেবল বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাই নয়, বরং গা শিউরে ওঠার মতো দুঃস্বপ্নও আপনাকে তাড়া করতে পারে। তাই দুঃস্বপ্ন দেখার ঝুঁকি কমাতে ঘুমানোর অন্তত ঘণ্টা দুয়েক আগে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো। মধ্যরাতে কিছু খেতে ইচ্ছে হলে হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন। তেল-চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
এসেনশিয়াল অয়েল (সুগন্ধি তেল) ব্যবহার করে দেখতে পারেন
আপনার পছন্দের কোনো প্রশান্তিদায়ক এসেনশিয়াল অয়েলের সুবাসে যদি শোবার ঘরটি সুরভিত থাকে, তবে ভীতিজাগানিয়া স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। আপনি বালিশে কয়েক ফোঁটা তেল ছড়িয়ে দিতে পারেন। দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা থাকলে একটি ডিফিউজার (সুগন্ধি ছড়ানোর যন্ত্র) ব্যবহার করাও দারুণ একটি উপায় হতে পারে। দুঃস্বপ্ন দূর করতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত কিছু এসেনশিয়াল অয়েল হলো—ক্যামোমাইল, জেসমিন (চামেলি), ল্যাভেন্ডার, গোলাপ, কমলা, ম্যান্ডারিন, চন্দন ইত্যাদি।




























জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা; পেয়েছে কেমন বাংলাদেশ?