ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট ৩০ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর- চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই ঢাকায় ইউএসবিবিসি : রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন গৌরীপুরে মাস্টার মেসের মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন- ১৬ বাংলাদেশির মৃত্য এসএসসির ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ গাজীপুরে যুবদল নেতার ওপর সশস্ত্র হামলা, আহত ২: বিএনপির তীব্র নিন্দা কলমাকান্দায় আদিবাসী দিবস পালন কোটালীপাড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ নারীরা নেতৃত্বের সুযোগ পেলে শক্তিশালী হবে দেশের ভবিষ্যৎ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট

সাংবাদিক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলেও বাছাই পর্বে বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থীর কেউই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ অগাস্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দুই প্রার্থী বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ সময় বিকাল ৪টা পার হওয়ার পর তাদের দুজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমেদও জমা দেন মনোনয়নপত্র।

১৬ অগাস্ট বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা।

মঙ্গলবার বিকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হয়েছে। বৈধ প্রার্থী দুই জনের কেউই প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ অগাস্ট দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদ। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচনী কর্মকর্তা সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরবেন। এরপর ভোট হবে। এখন ব্যালট পেপার ছাপিয়ে সংসদ কক্ষে (২০ অগাস্ট দুপুর ২টায় সংসদের আসনে) ভোটের দিন সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যালটের রঙ সাদার উপরে কালো প্রিন্ট। আজকের পর আমরা ব্যালট পেপার তৈরি করব। ব্যালটের মুড়ি অংশ ও ব্যালট পেপার অংশ থাকবে। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার নেবেন। এরপর বিভক্তি সংখ্যা উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত জায়গায় পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। নির্ধারিত বাক্সে ফেলবেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে, এরপর গণণা। প্রাপ্ত বৈধ ভোট যিনি বেশি পাবেন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ত্রয়োদশ সংসদে এবার ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন।

এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।

ফিরে দেখা ১৯৯১, সেবারও দুই প্রার্থী আর আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী ও মকবুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ৮ অক্টোবর ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল।

১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সড়ে দাঁড়ান মকবুল হোসেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুইজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়।

এই নির্বাচন ঘিরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের কার্যাবলি বলে গণ্য হবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

বিরোধী দলের ৭ জন সদস্য প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সদস্য পদ বাতিলের বিষয়টির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। পরে ৩ অক্টোবর এ সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিল হয়।

বিরোধী দলের দাবি ছিল, প্রতিবাদ, রিট আবেদনসহ নানা ঘটনার মধ্যে সরকারি প্রেসনোটের মাধ্যমে এটা বাতিল হয়েছে। আর নির্বাচন স্থগিতের রিট আবেদনও ভোটের আগের দিন খারিজ করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ কক্ষে ভোট হয়েছে।

সেবার ভোটার ছিল সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে ৩৩০ জন। এরমধ্যে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস দলের ১৭০ ভোট ও স্বতন্ত্রের ২ ভোট নিয়ে মোট ১৭২ ভোট পান। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

জাতীয় পার্টি ভোট বর্জন করে এবং জামায়াত, সিপিবিসহ অনেকে ভোটদানে বিরত থাকে।

৩৫ বছর পর এবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। ফলে আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে এই অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ভোটের দুদিন আগে মঙ্গলবার আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে বলে ইতোমধ্যে প্রধান হুইপ ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
৫০৪ Time View

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট

আপডেটের সময় : ০১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলেও বাছাই পর্বে বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থীর কেউই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ অগাস্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দুই প্রার্থী বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ সময় বিকাল ৪টা পার হওয়ার পর তাদের দুজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমেদও জমা দেন মনোনয়নপত্র।

১৬ অগাস্ট বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা।

মঙ্গলবার বিকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হয়েছে। বৈধ প্রার্থী দুই জনের কেউই প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ অগাস্ট দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদ। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচনী কর্মকর্তা সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরবেন। এরপর ভোট হবে। এখন ব্যালট পেপার ছাপিয়ে সংসদ কক্ষে (২০ অগাস্ট দুপুর ২টায় সংসদের আসনে) ভোটের দিন সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যালটের রঙ সাদার উপরে কালো প্রিন্ট। আজকের পর আমরা ব্যালট পেপার তৈরি করব। ব্যালটের মুড়ি অংশ ও ব্যালট পেপার অংশ থাকবে। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার নেবেন। এরপর বিভক্তি সংখ্যা উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত জায়গায় পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। নির্ধারিত বাক্সে ফেলবেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে, এরপর গণণা। প্রাপ্ত বৈধ ভোট যিনি বেশি পাবেন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ত্রয়োদশ সংসদে এবার ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন।

এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।

ফিরে দেখা ১৯৯১, সেবারও দুই প্রার্থী আর আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী ও মকবুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ৮ অক্টোবর ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল।

১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সড়ে দাঁড়ান মকবুল হোসেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুইজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়।

এই নির্বাচন ঘিরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের কার্যাবলি বলে গণ্য হবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

বিরোধী দলের ৭ জন সদস্য প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সদস্য পদ বাতিলের বিষয়টির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। পরে ৩ অক্টোবর এ সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিল হয়।

বিরোধী দলের দাবি ছিল, প্রতিবাদ, রিট আবেদনসহ নানা ঘটনার মধ্যে সরকারি প্রেসনোটের মাধ্যমে এটা বাতিল হয়েছে। আর নির্বাচন স্থগিতের রিট আবেদনও ভোটের আগের দিন খারিজ করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ কক্ষে ভোট হয়েছে।

সেবার ভোটার ছিল সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে ৩৩০ জন। এরমধ্যে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস দলের ১৭০ ভোট ও স্বতন্ত্রের ২ ভোট নিয়ে মোট ১৭২ ভোট পান। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

জাতীয় পার্টি ভোট বর্জন করে এবং জামায়াত, সিপিবিসহ অনেকে ভোটদানে বিরত থাকে।

৩৫ বছর পর এবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। ফলে আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে এই অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ভোটের দুদিন আগে মঙ্গলবার আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে বলে ইতোমধ্যে প্রধান হুইপ ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।