ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে

সাংবাদিক

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণার পাশাপাশি সিলেটে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে।

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ​শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কাজে র‌্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল মাঠে নেমেছে।

​সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে আমি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল ঘুরে অধিকাংশ স্থানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছি। অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তথ্য ঘাটতি ও বয়সের কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের কভার করতে ‘মপ-আপ’ ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান শুরু হবে। সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এটি চালুর উপযোগী হবে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই জনবল নিয়োগ শুরু হবে।

​চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ ও সুরক্ষা
৭,৫০০ চিকিৎসক ও ৫,০০০ নার্স নিয়োগের ঘোষণা
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। চিকিৎসক ও রোগী পরস্পর প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে উভয়ের সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। সিলেটে একটি পৃথক শিশু হাসপাতাল করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনের সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প ঘিরে কাজ চলছে। এগুলো হলো- ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা। এসব প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​হাসপাতাল পরিদর্শনে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শুরুতেই দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে

আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণার পাশাপাশি সিলেটে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে।

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ​শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কাজে র‌্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল মাঠে নেমেছে।

​সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে আমি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল ঘুরে অধিকাংশ স্থানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছি। অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তথ্য ঘাটতি ও বয়সের কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের কভার করতে ‘মপ-আপ’ ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান শুরু হবে। সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এটি চালুর উপযোগী হবে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই জনবল নিয়োগ শুরু হবে।

​চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ ও সুরক্ষা
৭,৫০০ চিকিৎসক ও ৫,০০০ নার্স নিয়োগের ঘোষণা
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। চিকিৎসক ও রোগী পরস্পর প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে উভয়ের সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। সিলেটে একটি পৃথক শিশু হাসপাতাল করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনের সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প ঘিরে কাজ চলছে। এগুলো হলো- ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা। এসব প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​হাসপাতাল পরিদর্শনে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শুরুতেই দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।