ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ

সাংবাদিক

সান্ত্বনার জয়টাও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। আফগানিস্তান ১২০ রান নিতেই শান্ত-তাসকিনদের ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়। এবার ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ।

দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন তাওহীদ হৃদয়। ফাইনালে উঠতে আগে ব্যাটিংটাই তাদের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক ছিল। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় কোনো কাজেই এলো না সেই সিদ্ধান্ত। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের সুবাদে ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ ১৬০ রান তোলে।

সেই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আফগানিস্তান ৩৯ রানে ২ উইকেট হারায়। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (৬) বোল্ড করেছেন তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকেও (৪) বোল্ড করে তিনি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়েছেন।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ মিলে ৫৬ রান যোগ করে মূলত টাইগারদের আশা আরও ক্ষীণ করে তোলেন। ইব্রাহিমের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দিলে মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে বল তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে রহমত অনায়াসে ১১৯ রানের গেরো খুলে আফগানদের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন।

এরপর জয় নিশ্চিতেও আর বেগ পেতে হয়নি রহমত শাহ’র দলকে। ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা অধিনায়ক রহমত ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জিতে আফগানিস্তান ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ২ এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১ উইকেট শিকার করেছেন।

চোটে পড়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের বদলি হিসেবে সিরিজে ডাক পাওয়া ইমনই কেবল এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সান্ত্বনা। তিনি আর সাইফ হাসান ছাড়া কেউই ব্যাটিংয়ে পথ দেখাতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেটে শুরু, মাঝে এবং শেষেও একই দৃশ্যের মঞ্চায়ন। পঞ্চম উইকেট জুটিটাই কেবল বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। সাইফ হাসান ও ইমন মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। এর বাইরে কেবলই হতাশা!

বাংলাদেশের পক্ষে ইমন ৯৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ এবং সাইফ ৮২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করেছেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত’র ১৫ রানের বাইরে আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ডাক নিয়ে ফিরেছেন চার ব্যাটার।

৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সবচেয়ে সেরা বোলার রশিদ খান। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শিকার দুটি করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৫০৫ Time View

আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ

আপডেটের সময় : ১১:০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সান্ত্বনার জয়টাও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। আফগানিস্তান ১২০ রান নিতেই শান্ত-তাসকিনদের ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়। এবার ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ।

দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন তাওহীদ হৃদয়। ফাইনালে উঠতে আগে ব্যাটিংটাই তাদের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক ছিল। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় কোনো কাজেই এলো না সেই সিদ্ধান্ত। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের সুবাদে ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ ১৬০ রান তোলে।

সেই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আফগানিস্তান ৩৯ রানে ২ উইকেট হারায়। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (৬) বোল্ড করেছেন তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকেও (৪) বোল্ড করে তিনি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়েছেন।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ মিলে ৫৬ রান যোগ করে মূলত টাইগারদের আশা আরও ক্ষীণ করে তোলেন। ইব্রাহিমের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দিলে মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে বল তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে রহমত অনায়াসে ১১৯ রানের গেরো খুলে আফগানদের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন।

এরপর জয় নিশ্চিতেও আর বেগ পেতে হয়নি রহমত শাহ’র দলকে। ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা অধিনায়ক রহমত ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জিতে আফগানিস্তান ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ২ এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১ উইকেট শিকার করেছেন।

চোটে পড়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের বদলি হিসেবে সিরিজে ডাক পাওয়া ইমনই কেবল এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সান্ত্বনা। তিনি আর সাইফ হাসান ছাড়া কেউই ব্যাটিংয়ে পথ দেখাতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেটে শুরু, মাঝে এবং শেষেও একই দৃশ্যের মঞ্চায়ন। পঞ্চম উইকেট জুটিটাই কেবল বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। সাইফ হাসান ও ইমন মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। এর বাইরে কেবলই হতাশা!

বাংলাদেশের পক্ষে ইমন ৯৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ এবং সাইফ ৮২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করেছেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত’র ১৫ রানের বাইরে আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ডাক নিয়ে ফিরেছেন চার ব্যাটার।

৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সবচেয়ে সেরা বোলার রশিদ খান। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শিকার দুটি করে।