ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এনসিটিবির বই ছাপানোয় সিন্ডিকেট, সময়ক্ষেপণ ও কৃত্রিম সংকট: শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে শোডাউন নয় গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে থামলেই ভোগান্তি- অভিযোগ মোটরসাইকেল আরোহীদের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পেক্স ক্লাব অফ চাঁদপুরের পালাবদল অনুষ্ঠিত আগামী ৩০ জুন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চালু হচ্ছে ইত্তিহাদ রেলের যাত্রী সেবা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এআইইউবিতে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত অবশেষে হরমুজ পাড়ি দিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সিংগাইরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মাহিয়ার মরদেহ উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি হিউম্যান রাইটস এলাইভ ভোলা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

এনসিটিবির বই ছাপানোয় সিন্ডিকেট, সময়ক্ষেপণ ও কৃত্রিম সংকট: শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট, টেন্ডার জটিলতা, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞের দাবি, এসব কারণে প্রায় প্রতি বছরই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্পন্ন বই পৌঁছে দেওয়ার ওপর।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বই উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া—কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণ—গুটিকয়েক প্রভাবশালী প্রেস মালিকের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের পরিদর্শন সংস্থার (ইন্সপেকশন এজেন্সি) সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে হলে উৎপাদন কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু করা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরের মতো এবারও বই বিতরণে বিলম্ব এবং মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সময়মতো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বাড়ছে সংকট

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠ্যবই ছাপানো থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস আগে টেন্ডার, কাগজ সংগ্রহ ও মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ মাস থেকেই টেন্ডার কার্যক্রম শুরু করা গেলে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ, বাঁধাই এবং উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে নভেম্বরের মধ্যেই অধিকাংশ বই বিতরণ সম্পন্ন করা যাবে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

কিন্তু বাস্তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেক সময় আগস্ট পর্যন্ত গড়ায়। ফলে বছরের শেষ দিকে কাগজের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয় এবং কাগজের দামও বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে বই মুদ্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালের পর টেন্ডার কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের আগে এনসিটিবির বই উৎপাদনে কাগজ সরবরাহকারী পেপার মিলগুলো সরাসরি যুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে টেন্ডার কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে কাগজ সংগ্রহ ও মুদ্রণের পুরো দায়িত্ব প্রিন্টারদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে কাগজ সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রণ কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের হাতে কাগজ সংগ্রহ ও ছাপানোর দায়িত্ব থাকায় প্রতিযোগিতা কমেছে এবং সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বেড়েছে।

তাদের দাবি, কাগজ সরবরাহ ও মুদ্রণের দায়িত্ব পৃথকভাবে দেওয়া হলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরকারের ব্যয়ও কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক প্রকাশনা ও শিক্ষাখাতে কাগজের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ঠিক এ সময় এনসিটিবির বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে কাগজের সরবরাহে সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়।

তাদের মতে, টেন্ডার ও কাগজ সংগ্রহের কাজ আগে শুরু করলে বাজারে চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

শত শত প্রেস থাকলেও কাজ সীমিত কয়েকটির হাতে

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে এনসিটিবির বই ছাপানোর সক্ষমতা রয়েছে এমন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি প্রেস রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি প্রেস কিংবা ২০ থেকে ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ কাজ চলে যায়।

এতে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ও সক্ষম প্রেস কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মানহ্রাস এবং জবাবদিহিতার সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের রিসাইকেল কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভার্জিন পাল্প থেকে তৈরি ন্যাচারাল শেড বা অফ-হোয়াইট কাগজের পরিবর্তে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উপযোগী নয় এবং দীর্ঘসময় পড়াশোনার ক্ষেত্রে চোখের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে তুলনামূলক উন্নতমানের অফ-হোয়াইট কাগজ ব্যবহার করায় বইয়ের গুণগত মান কিছুটা উন্নত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে অনিয়মিত বা অবৈধভাবে কাগজ আমদানির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগে প্রিন্ট মাস্টার, মাস্টার সিমেক্স, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস এবং অ্যাপেক্স প্রিন্টিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বই উৎপাদন ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া দীর্ঘদিনের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তারা কাগজ সরবরাহের দায়িত্ব সরাসরি পেপার মিলগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং ছাপাখানাগুলোকে পৃথকভাবে শুধু মুদ্রণের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

তাদের মতে, এতে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, কাগজের মান নিশ্চিত হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৯:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
৫১৩ Time View

এনসিটিবির বই ছাপানোয় সিন্ডিকেট, সময়ক্ষেপণ ও কৃত্রিম সংকট: শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০৯:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট, টেন্ডার জটিলতা, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞের দাবি, এসব কারণে প্রায় প্রতি বছরই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্পন্ন বই পৌঁছে দেওয়ার ওপর।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বই উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া—কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণ—গুটিকয়েক প্রভাবশালী প্রেস মালিকের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের পরিদর্শন সংস্থার (ইন্সপেকশন এজেন্সি) সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে হলে উৎপাদন কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু করা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরের মতো এবারও বই বিতরণে বিলম্ব এবং মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সময়মতো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বাড়ছে সংকট

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠ্যবই ছাপানো থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস আগে টেন্ডার, কাগজ সংগ্রহ ও মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ মাস থেকেই টেন্ডার কার্যক্রম শুরু করা গেলে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ, বাঁধাই এবং উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে নভেম্বরের মধ্যেই অধিকাংশ বই বিতরণ সম্পন্ন করা যাবে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

কিন্তু বাস্তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেক সময় আগস্ট পর্যন্ত গড়ায়। ফলে বছরের শেষ দিকে কাগজের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয় এবং কাগজের দামও বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে বই মুদ্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালের পর টেন্ডার কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের আগে এনসিটিবির বই উৎপাদনে কাগজ সরবরাহকারী পেপার মিলগুলো সরাসরি যুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে টেন্ডার কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে কাগজ সংগ্রহ ও মুদ্রণের পুরো দায়িত্ব প্রিন্টারদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে কাগজ সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রণ কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের হাতে কাগজ সংগ্রহ ও ছাপানোর দায়িত্ব থাকায় প্রতিযোগিতা কমেছে এবং সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বেড়েছে।

তাদের দাবি, কাগজ সরবরাহ ও মুদ্রণের দায়িত্ব পৃথকভাবে দেওয়া হলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরকারের ব্যয়ও কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক প্রকাশনা ও শিক্ষাখাতে কাগজের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ঠিক এ সময় এনসিটিবির বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে কাগজের সরবরাহে সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়।

তাদের মতে, টেন্ডার ও কাগজ সংগ্রহের কাজ আগে শুরু করলে বাজারে চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

শত শত প্রেস থাকলেও কাজ সীমিত কয়েকটির হাতে

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে এনসিটিবির বই ছাপানোর সক্ষমতা রয়েছে এমন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি প্রেস রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি প্রেস কিংবা ২০ থেকে ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ কাজ চলে যায়।

এতে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ও সক্ষম প্রেস কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মানহ্রাস এবং জবাবদিহিতার সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের রিসাইকেল কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভার্জিন পাল্প থেকে তৈরি ন্যাচারাল শেড বা অফ-হোয়াইট কাগজের পরিবর্তে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উপযোগী নয় এবং দীর্ঘসময় পড়াশোনার ক্ষেত্রে চোখের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে তুলনামূলক উন্নতমানের অফ-হোয়াইট কাগজ ব্যবহার করায় বইয়ের গুণগত মান কিছুটা উন্নত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে অনিয়মিত বা অবৈধভাবে কাগজ আমদানির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগে প্রিন্ট মাস্টার, মাস্টার সিমেক্স, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস এবং অ্যাপেক্স প্রিন্টিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বই উৎপাদন ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া দীর্ঘদিনের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তারা কাগজ সরবরাহের দায়িত্ব সরাসরি পেপার মিলগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং ছাপাখানাগুলোকে পৃথকভাবে শুধু মুদ্রণের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

তাদের মতে, এতে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, কাগজের মান নিশ্চিত হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।