ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’-এর রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

রনবীর রায় রাজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
৫৬৩ Time View

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।