ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের কার্ড ইস্যুর সফটওয়্যার তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি বিল সংসদে পাস ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো বৈধ প্রার্থীই লড়তে পারবেন’ রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে তফসিল ঘোষণা, ভোট ২৯ অক্টোবর ইউপি নির্বাচন: জামানত বাড়ছে ৫ গুণ, ভোট বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি মেট্রোরেলের ৪৬টি পিয়ারে ফাটল চিহ্নিত: সংসদে মন্ত্রী আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘আমলযোগ্য’, তাই অনুসন্ধান: দুদক সচিব রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়

দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান

সাংবাদিক

দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নির্ধারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানিকারকদের আবেদন পাওয়ার পর দেশে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে গত বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত বছর সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছিল ১৫০ টন।

এবার বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা আগের বছরগুলোর মতো স্বল্প সময়ের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তত দুই মাস এবং সম্ভব হলে সারা বছর রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হোক। তাদের যুক্তি, মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ইলিশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শেষ করা কঠিন।

ইলিশ রপ্তানিতে আগ্রহী ১৮ প্রতিষ্ঠান
এ বছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- খুলনার বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ; চট্টগ্রামের জেএস এন্টারপ্রাইজ ও আনরাজ ফিশ প্রোডাক্টস; যশোরের লাকি এন্টারপ্রাইজ, এমইউসি ফুডস, মোহতাব অ্যান্ড সন্স ও জনতা ফিশ; ঢাকার ভিজিল্যান্ট এক্সপ্রেস, স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, ম্যাজেস্টিক এন্টারপ্রাইজ ও বিডিএস করপোরেশন; বরিশালের মহিমা এন্টারপ্রাইজ, এআর এন্টারপ্রাইজ ও তানিশা এন্টারপ্রাইজ; ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ এবং সাতক্ষীরার এম এ এন্টারপ্রাইজ ও সুমন ট্রেডার্স।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলাদা চিঠি দিয়ে এ অনুরোধ জানায়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করত। পরে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অনুমতিতে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বরাবরই কম হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ওই বছর রপ্তানি হয় ৪৫০ টন। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমতির বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৭৫০ টন। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন এবং ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতে যায় মাত্র ৫৭৭ টন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৬ Time View

দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান

আপডেটের সময় : ০৩:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নির্ধারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানিকারকদের আবেদন পাওয়ার পর দেশে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে গত বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত বছর সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছিল ১৫০ টন।

এবার বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা আগের বছরগুলোর মতো স্বল্প সময়ের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তত দুই মাস এবং সম্ভব হলে সারা বছর রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হোক। তাদের যুক্তি, মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ইলিশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শেষ করা কঠিন।

ইলিশ রপ্তানিতে আগ্রহী ১৮ প্রতিষ্ঠান
এ বছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- খুলনার বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ; চট্টগ্রামের জেএস এন্টারপ্রাইজ ও আনরাজ ফিশ প্রোডাক্টস; যশোরের লাকি এন্টারপ্রাইজ, এমইউসি ফুডস, মোহতাব অ্যান্ড সন্স ও জনতা ফিশ; ঢাকার ভিজিল্যান্ট এক্সপ্রেস, স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, ম্যাজেস্টিক এন্টারপ্রাইজ ও বিডিএস করপোরেশন; বরিশালের মহিমা এন্টারপ্রাইজ, এআর এন্টারপ্রাইজ ও তানিশা এন্টারপ্রাইজ; ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ এবং সাতক্ষীরার এম এ এন্টারপ্রাইজ ও সুমন ট্রেডার্স।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলাদা চিঠি দিয়ে এ অনুরোধ জানায়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করত। পরে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অনুমতিতে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বরাবরই কম হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ওই বছর রপ্তানি হয় ৪৫০ টন। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমতির বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৭৫০ টন। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন এবং ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতে যায় মাত্র ৫৭৭ টন।