দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগে ‘ডিও লেটার’ বাতিলের দাবি, মানববন্ধনের হুঁশিয়ারি
শাহ্ আল-আমিন আমানত: কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারি সার ডিলার নিয়োগে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেওয়া কথিত ‘ডিও লেটার’ বা সুপারিশপত্রকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশের প্রভাব থাকার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট সব ‘ডিও লেটার’ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। দাবি বাস্তবায়ন না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় সার সরবরাহ ও বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেওয়া সুপারিশ বা ‘ডিও লেটার’ থাকলে সাধারণ ও যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতিযোগিতায় বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই করা হোক। একই সঙ্গে যেসব ‘ডিও লেটার’ বা সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন’ সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সময়ে সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ বৃদ্ধির নোটিশও প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রস্তাবিত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা, নির্ধারিত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা প্রকাশ্যে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা আরও বলেন, সরকারি ভর্তুকির আওতায় কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
কোনো ধরনের প্রভাব, সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়তে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সব ‘ডিও লেটার’ ও সুপারিশপত্র পর্যালোচনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নীতিমালা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে কারা মানববন্ধনের আয়োজন করবেন এবং কর্মসূচির নির্দিষ্ট স্থান ও সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিও লেটারদাতা, আবেদনকারী ও উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।



























আপেল খেতে খেতে এর বীজও খেয়ে ফেলছেন? ক্ষতিগুলো জানুন