ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ঢাকা-১৭ আসনের ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের কার্ড ইস্যুর সফটওয়্যার তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি বিল সংসদে পাস ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো বৈধ প্রার্থীই লড়তে পারবেন’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র

সাংবাদিক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে কোনো যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হলো। শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে গত বুধবার মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ তলিয়ে গেছে।

পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলাকারী সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি। ওই দিন সকালে প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি টর্পেডো আঘাত হানছে এবং বিশাল জলরাশি আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। হামলায় যুদ্ধজাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হতে দেখা যায়।

পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ ঘটনাকে ‘নীরব মৃত্যু’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বিষয়টিকে পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেন, টর্পেডোটি ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব’ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করেছেন। জাহাজটিতে ১৮০ জন ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ‘ইউএসএস টর্স্ক’ থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজে টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। তখন জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল সেটি।

এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত থাকলেও কোনো জাহাজ ডোবানোর কাজে টর্পেডো ব্যবহার করেনি। তবে ১৯৯১ সালের ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং গত জুনে ইরানের ইস্পাহানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

জেনারেল কেইন জানান, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডোবাতে ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই টর্পেডোটি সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডো সোনার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, ফলে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে যুদ্ধজাহাজটির সামনের অংশটি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৭৫৭ Time View

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে কোনো যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হলো। শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে গত বুধবার মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ তলিয়ে গেছে।

পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলাকারী সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি। ওই দিন সকালে প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি টর্পেডো আঘাত হানছে এবং বিশাল জলরাশি আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। হামলায় যুদ্ধজাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হতে দেখা যায়।

পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ ঘটনাকে ‘নীরব মৃত্যু’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বিষয়টিকে পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেন, টর্পেডোটি ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব’ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করেছেন। জাহাজটিতে ১৮০ জন ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ‘ইউএসএস টর্স্ক’ থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজে টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। তখন জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল সেটি।

এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত থাকলেও কোনো জাহাজ ডোবানোর কাজে টর্পেডো ব্যবহার করেনি। তবে ১৯৯১ সালের ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং গত জুনে ইরানের ইস্পাহানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

জেনারেল কেইন জানান, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডোবাতে ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই টর্পেডোটি সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডো সোনার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, ফলে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে যুদ্ধজাহাজটির সামনের অংশটি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে।