ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে: নাহিদ ইসলাম

সাংবাদিক

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। তিনি হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সেটি তারেক রহমানের নিজের সিদ্ধান্ত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এরশাদও একসময় সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। তারেক রহমানকেও নিজের জন্য যাওয়ার পথ বেছে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন পাশ করেছে এবং র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করেছে। সরকারের দায়িত্ব যেখানে মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষা দেওয়া, সেখানে বর্তমান সরকার মানবাধিকার হরণের পরিস্থিতি তৈরি করছে।

এ সময় নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠানকে জনগণের অধিকার হরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেছে। সরকারের পরিবর্তন হলেও জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে রংপুরমুখী লংমার্চকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, কর্মসূচির পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের ঘটনা ঘটছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের লোকজনও এতে যুক্ত হয়েছেন।

তবে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লংমার্চের কর্মসূচি বা জনসম্পৃক্ততা ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিকে থামানো সম্ভব হবে না।

বিরোধী দলের আন্দোলনের দাবির পরিধি ক্রমেই বাড়ছে বলেও সমাবেশে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, লংমার্চ ও আন্দোলনের বিভিন্ন দাবি শেষ পর্যন্ত একটি দাবিতে গিয়ে মিলিত হবে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব ও সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৪ Time View

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেটের সময় : ০৪:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। তিনি হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সেটি তারেক রহমানের নিজের সিদ্ধান্ত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এরশাদও একসময় সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। তারেক রহমানকেও নিজের জন্য যাওয়ার পথ বেছে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের অধিকার হরণ করছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন পাশ করেছে এবং র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করেছে। সরকারের দায়িত্ব যেখানে মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষা দেওয়া, সেখানে বর্তমান সরকার মানবাধিকার হরণের পরিস্থিতি তৈরি করছে।

এ সময় নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠানকে জনগণের অধিকার হরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেছে। সরকারের পরিবর্তন হলেও জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে রংপুরমুখী লংমার্চকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, কর্মসূচির পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের ঘটনা ঘটছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের লোকজনও এতে যুক্ত হয়েছেন।

তবে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লংমার্চের কর্মসূচি বা জনসম্পৃক্ততা ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিকে থামানো সম্ভব হবে না।

বিরোধী দলের আন্দোলনের দাবির পরিধি ক্রমেই বাড়ছে বলেও সমাবেশে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, লংমার্চ ও আন্দোলনের বিভিন্ন দাবি শেষ পর্যন্ত একটি দাবিতে গিয়ে মিলিত হবে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব ও সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।