ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র কেন সৌদিকে সহায়তা করছে না?

সাংবাদিক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে লড়াই শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুথিদের ওপর সরাসরি বিমান হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বানে সাড়া দেননি। কিন্তু কেন?

যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সিমন মাবোন সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধে লিপ্ত আছে। আর ইরান হলো হুথিদের প্রধান সহায়তাকারী। ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এ প্রত্যাশা নিয়ে যে, এটি কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাস হয়ে গেছে, এখনো এটির কোনো সমাধান হয়নি। এ যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং কীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা হবে সেটিরও কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন।

এরমধ্যে ইয়েমেনে যদি আরেকটি ফ্রন্ট খোলা হয় তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য তা ভালো হবে না। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করলে তা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। যেখানে ট্রাম্প তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তহীন যুদ্ধ থেকে বের করে নিয়ে আসবেন তিনি।

গতমাসে রয়টার্স/ইপসসের একটি জরিপে দেখা গেছে, মার্কিনিদের মধ্যে মাত্র ৩১ শতাংশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছেন। যেখানে এটি আগের মাসে ৩৭ শতাংশ ছিল। অপরদিকে ৮৩ শতাংশ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়ত আরও দীর্ঘমেয়াদী হবে।

এ প্রফেসর বলেছেন, “নভেম্বরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা এ নিয়ে ভয়ে থাকবে। ইয়েমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আরেকটি ফ্রন্ট খুললে অন্তহীন যুদ্ধ বাধবে। যা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ অগ্রহণযোগ্য হবে।”

এছাড়া আরেকটি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা আছে কি না তাও যথেষ্ট প্রশ্ন তুলবে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে খবর বের হয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিনিদের অস্ত্রে টান পড়েছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা। যেটি ওই সময় থেকে ফুরিয়ে আসছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তাদের ৩৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এছাড়া কয়েকডজন বিমান ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র:- আলজাজিরা

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

যুক্তরাষ্ট্র কেন সৌদিকে সহায়তা করছে না?

আপডেটের সময় : ০৪:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে লড়াই শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুথিদের ওপর সরাসরি বিমান হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বানে সাড়া দেননি। কিন্তু কেন?

যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সিমন মাবোন সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধে লিপ্ত আছে। আর ইরান হলো হুথিদের প্রধান সহায়তাকারী। ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এ প্রত্যাশা নিয়ে যে, এটি কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাস হয়ে গেছে, এখনো এটির কোনো সমাধান হয়নি। এ যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং কীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা হবে সেটিরও কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন।

এরমধ্যে ইয়েমেনে যদি আরেকটি ফ্রন্ট খোলা হয় তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য তা ভালো হবে না। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করলে তা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। যেখানে ট্রাম্প তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তহীন যুদ্ধ থেকে বের করে নিয়ে আসবেন তিনি।

গতমাসে রয়টার্স/ইপসসের একটি জরিপে দেখা গেছে, মার্কিনিদের মধ্যে মাত্র ৩১ শতাংশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছেন। যেখানে এটি আগের মাসে ৩৭ শতাংশ ছিল। অপরদিকে ৮৩ শতাংশ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়ত আরও দীর্ঘমেয়াদী হবে।

এ প্রফেসর বলেছেন, “নভেম্বরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা এ নিয়ে ভয়ে থাকবে। ইয়েমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে আরেকটি ফ্রন্ট খুললে অন্তহীন যুদ্ধ বাধবে। যা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ অগ্রহণযোগ্য হবে।”

এছাড়া আরেকটি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা আছে কি না তাও যথেষ্ট প্রশ্ন তুলবে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে খবর বের হয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিনিদের অস্ত্রে টান পড়েছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা। যেটি ওই সময় থেকে ফুরিয়ে আসছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তাদের ৩৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এছাড়া কয়েকডজন বিমান ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র:- আলজাজিরা