ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনে মনে নাকি জোরে জোরে? কীভাবে পড়লে বেশি মনে থাকে

সাংবাদিক

কেউ মনে মনে পড়েন, কেউ আবার শব্দ করে। ছেলেবেলায় বলা হত, শব্দ করে পড়লে পড়া মুখস্থ হয়। কোনভাবে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। 

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু’র  বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক কলিন ম্যাকলিউড এবং তার সহকর্মী নোয়া ফরিন ৯৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ৪টি আলাদা পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন। এগুলো হচ্ছে- ১.মনে মনে পড়া ২. অন্যের পড়া শোনা ৩. নিজের পড়া রেকর্ড শোনা ৪. নিজে জোরে জোরে পড়া। এতে দেখা গেছে, যারা নিজে জোরে পড়েছে, তাদের মনে রাখার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

পরে আরও এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭-১০ বছরের শিশুরা জোরে পড়ে প্রায় ৮৭ শতাংশ শব্দ মনে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে মনে মনে পড়ে মাত্র ৭০ শতাংশ শিশু মনে রাখতে পেরেছে। পাবমেট-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শব্দ নয়, গোটা প্যারাগ্রাফ বা প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। জোরে পড়লে তথ্য ১ সপ্তাহ পরেও মনে থাকে, মনে মনে পড়া ভুলে যায়।

কেন এমন হয়?
যখন মনে মনে কেউ পড়ে তখন মস্তিষ্কে শুধু ভিজ্যুয়াল মেমোরি কাজ করে। কিন্তু জোরে পড়লে একসঙ্গে তিনটে জিনিস হয় – চোখ দেখে , মুখ বলে , কান নিজের আওয়াজ শোনে। মস্তিষ্ক এই ট্রিপল অ্যাকশনকে একটা আলাদা ঘটনা হিসেবে ট্যাগ করে দেয়। তাই পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখলেই ওই ঘটনাটা মনে পড়ে যায়।

মনে মনে পড়লে সাধারণত তাড়াতাড়ি পড়া যায়। প্রতিটি শব্দ মুখে বলতে হয় না বলে কম সময়ে বেশি পড়া যায়। তাই গল্পের বই, খবরের কাগজ, বড় কোনও অধ্যায় বা পরীক্ষার আগে পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশি সুবিধাজনক। তবে তাড়াহুড়ো করতে পড়তে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারছেন কী না, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।

মনে মনে পড়ার সময় একটি সমস্যা হতে পারে তা হলো অমনস্ক হয়ে যাওয়া। কারণে নীরবে পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি অংশ পড়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন। যদি উত্তর দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে লেখাটি আপনার মাথায় ঢুকছে।

শব্দ করে পড়লে চোখে দেখার পাশাপাশি কানেও নিজের পড়া শোনা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এতে বিষয়টি মনে রাখা সোজা হয়। বিশেষ করে নতুন শব্দ শেখা, কবিতা পড়া, ভাষা শেখা বা কঠিন কোনও বিষয় বোঝার সময় শব্দ করে পড়া উপকারী হতে পারে। ছোটদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করতেও এই পদ্ধতি কাজে লাগে।

শব্দ করে পড়ার অন্যতম সুবিধা হল উচ্চারণের ভুল সহজে ধরা যায়। কোনও শব্দ বারবার ভুল উচ্চারণ করলে জোরে পড়ার সময় নিজের ভুলটি কানে লাগতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সবকিছু জোরে পড়লে পড়ার গতি কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জোরে পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।

শুধু মনে মনে বা শব্দ করে পড়লেই যে সব মনে থাকবে, তা নয়। পড়া শেষ করার পর বই বন্ধ করে  নিজেকে প্রশ্ন করুন – কী পড়লাম? গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কী? এভাবে পড়া বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করলে বিষয়টি আরও ভাল ভাবে মনে থাকে। সূত্র: এশিয়াননিউজ, টিভিনাইন

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫২০ Time View

মনে মনে নাকি জোরে জোরে? কীভাবে পড়লে বেশি মনে থাকে

আপডেটের সময় : ০৫:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেউ মনে মনে পড়েন, কেউ আবার শব্দ করে। ছেলেবেলায় বলা হত, শব্দ করে পড়লে পড়া মুখস্থ হয়। কোনভাবে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। 

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু’র  বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক কলিন ম্যাকলিউড এবং তার সহকর্মী নোয়া ফরিন ৯৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ৪টি আলাদা পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন। এগুলো হচ্ছে- ১.মনে মনে পড়া ২. অন্যের পড়া শোনা ৩. নিজের পড়া রেকর্ড শোনা ৪. নিজে জোরে জোরে পড়া। এতে দেখা গেছে, যারা নিজে জোরে পড়েছে, তাদের মনে রাখার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

পরে আরও এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭-১০ বছরের শিশুরা জোরে পড়ে প্রায় ৮৭ শতাংশ শব্দ মনে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে মনে মনে পড়ে মাত্র ৭০ শতাংশ শিশু মনে রাখতে পেরেছে। পাবমেট-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শব্দ নয়, গোটা প্যারাগ্রাফ বা প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। জোরে পড়লে তথ্য ১ সপ্তাহ পরেও মনে থাকে, মনে মনে পড়া ভুলে যায়।

কেন এমন হয়?
যখন মনে মনে কেউ পড়ে তখন মস্তিষ্কে শুধু ভিজ্যুয়াল মেমোরি কাজ করে। কিন্তু জোরে পড়লে একসঙ্গে তিনটে জিনিস হয় – চোখ দেখে , মুখ বলে , কান নিজের আওয়াজ শোনে। মস্তিষ্ক এই ট্রিপল অ্যাকশনকে একটা আলাদা ঘটনা হিসেবে ট্যাগ করে দেয়। তাই পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখলেই ওই ঘটনাটা মনে পড়ে যায়।

মনে মনে পড়লে সাধারণত তাড়াতাড়ি পড়া যায়। প্রতিটি শব্দ মুখে বলতে হয় না বলে কম সময়ে বেশি পড়া যায়। তাই গল্পের বই, খবরের কাগজ, বড় কোনও অধ্যায় বা পরীক্ষার আগে পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশি সুবিধাজনক। তবে তাড়াহুড়ো করতে পড়তে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারছেন কী না, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।

মনে মনে পড়ার সময় একটি সমস্যা হতে পারে তা হলো অমনস্ক হয়ে যাওয়া। কারণে নীরবে পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি অংশ পড়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন। যদি উত্তর দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে লেখাটি আপনার মাথায় ঢুকছে।

শব্দ করে পড়লে চোখে দেখার পাশাপাশি কানেও নিজের পড়া শোনা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এতে বিষয়টি মনে রাখা সোজা হয়। বিশেষ করে নতুন শব্দ শেখা, কবিতা পড়া, ভাষা শেখা বা কঠিন কোনও বিষয় বোঝার সময় শব্দ করে পড়া উপকারী হতে পারে। ছোটদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করতেও এই পদ্ধতি কাজে লাগে।

শব্দ করে পড়ার অন্যতম সুবিধা হল উচ্চারণের ভুল সহজে ধরা যায়। কোনও শব্দ বারবার ভুল উচ্চারণ করলে জোরে পড়ার সময় নিজের ভুলটি কানে লাগতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সবকিছু জোরে পড়লে পড়ার গতি কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জোরে পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।

শুধু মনে মনে বা শব্দ করে পড়লেই যে সব মনে থাকবে, তা নয়। পড়া শেষ করার পর বই বন্ধ করে  নিজেকে প্রশ্ন করুন – কী পড়লাম? গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কী? এভাবে পড়া বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করলে বিষয়টি আরও ভাল ভাবে মনে থাকে। সূত্র: এশিয়াননিউজ, টিভিনাইন