ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ঢাকা-১৭ আসনের ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের কার্ড ইস্যুর সফটওয়্যার তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি বিল সংসদে পাস ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো বৈধ প্রার্থীই লড়তে পারবেন’

ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে জাতীয় মুজাহিদ দিবস পালিত: ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের ২০ আগস্টের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার স্মরণ

সাংবাদিক

মোহাম্মদ খায়রুল হাসান পলাশ,ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ — আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক—২০ আগস্ট ১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন আক্রমণ এবং ২০ আগস্ট ১৯৫৬ সালের সুমাম কংগ্রেস—স্মরণে আজ ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে জাতীয় মুজাহিদ দিবস পালিত হয়েছে।

দূতাবাস প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য, বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট অতিথি এবং আলজেরিয়ার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত মহামান্য ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি-এর পক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ বছরের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “We Follow in Their Footsteps of Struggle”—যা ঐক্য, আত্মত্যাগ, আনুগত্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারের মতো চিরন্তন মূল্যবোধকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দূতাবাস ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের এই দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কৌশলগত ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। বিপ্লবী নেতা জিগুত ইউসেফের নেতৃত্বে পরিচালিত ২০ আগস্ট ১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন আক্রমণ আলজেরিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (FLN)-এর প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনের প্রমাণ দেয়, সশস্ত্র সংগ্রামকে আরও বিস্তৃত করে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার প্রশ্নকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর এক বছর পর অনুষ্ঠিত ২০ আগস্ট ১৯৫৬ সালের সুমাম কংগ্রেস বিপ্লবকে আরও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এটি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলজেরীয় রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্মিলিতভাবে, এই দুটি ঘটনা আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের ব্যাপক জনসমর্থন, কৌশলগত সংগঠন এবং স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

দূতাবাস উল্লেখ করে যে ২০ আগস্টের ঐতিহ্য আজও আলজেরিয়ার জাতীয় পরিচয় ও পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করে। সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামরত জনগণের প্রতি সংহতি—এই নীতিগুলো আলজেরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাদৃশ্যও তুলে ধরা হয়। উভয় সংগ্রামই রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন, গণআন্দোলন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছিল।

এই অভিন্ন মুক্তিসংগ্রামের উত্তরাধিকার আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে চলেছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে দূতাবাস পুনর্ব্যক্ত করে যে, ২০ আগস্ট ১৯৫৫ ও ২০ আগস্ট ১৯৫৬-এর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ঐক্য, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার এক চিরন্তন প্রতীক, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও জাতীয় স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধারণে অনুপ্রাণিত করে।

আলজেরিয়ার বীর শহীদদের প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
৫৮৭ Time View

ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে জাতীয় মুজাহিদ দিবস পালিত: ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের ২০ আগস্টের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার স্মরণ

আপডেটের সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মোহাম্মদ খায়রুল হাসান পলাশ,ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ — আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক—২০ আগস্ট ১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন আক্রমণ এবং ২০ আগস্ট ১৯৫৬ সালের সুমাম কংগ্রেস—স্মরণে আজ ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে জাতীয় মুজাহিদ দিবস পালিত হয়েছে।

দূতাবাস প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য, বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট অতিথি এবং আলজেরিয়ার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত মহামান্য ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি-এর পক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ বছরের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “We Follow in Their Footsteps of Struggle”—যা ঐক্য, আত্মত্যাগ, আনুগত্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারের মতো চিরন্তন মূল্যবোধকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দূতাবাস ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের এই দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কৌশলগত ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। বিপ্লবী নেতা জিগুত ইউসেফের নেতৃত্বে পরিচালিত ২০ আগস্ট ১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন আক্রমণ আলজেরিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (FLN)-এর প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনের প্রমাণ দেয়, সশস্ত্র সংগ্রামকে আরও বিস্তৃত করে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার প্রশ্নকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর এক বছর পর অনুষ্ঠিত ২০ আগস্ট ১৯৫৬ সালের সুমাম কংগ্রেস বিপ্লবকে আরও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এটি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলজেরীয় রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্মিলিতভাবে, এই দুটি ঘটনা আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের ব্যাপক জনসমর্থন, কৌশলগত সংগঠন এবং স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

দূতাবাস উল্লেখ করে যে ২০ আগস্টের ঐতিহ্য আজও আলজেরিয়ার জাতীয় পরিচয় ও পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করে। সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামরত জনগণের প্রতি সংহতি—এই নীতিগুলো আলজেরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাদৃশ্যও তুলে ধরা হয়। উভয় সংগ্রামই রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন, গণআন্দোলন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছিল।

এই অভিন্ন মুক্তিসংগ্রামের উত্তরাধিকার আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে চলেছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে দূতাবাস পুনর্ব্যক্ত করে যে, ২০ আগস্ট ১৯৫৫ ও ২০ আগস্ট ১৯৫৬-এর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ঐক্য, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার এক চিরন্তন প্রতীক, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও জাতীয় স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধারণে অনুপ্রাণিত করে।

আলজেরিয়ার বীর শহীদদের প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধা।