ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৫০ দেশকে ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বানাতে জাপানের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী/ ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর কথা, নির্ধারিত সময়েই চালু হবে ৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ভাঙচুর সাফের টিকিটের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা, সমালোচনায় সমর্থক ও সাবেকরা আইফোনের জন্য বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩, আহত ১৫

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

ঢাকায় মেট্রোরেল সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। চুক্তি দুটির সম্মিলিত মূল্য ৫ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির বেশি।

চুক্তি অনুযায়ী, রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় এই কাজ পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি।

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয়ের পরিকল্পনা আড়াই লাখ কোটি টাকা

রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া মেট্রোরেলসহ পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে আনুমানিক ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (মেট্রোরেল লাইন-১) দুটি প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাজগুলো বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চুক্তি দুটি হলো:

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি০৯: রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ।
কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি১০: সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং লাইন-৬ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

যা বলছে এলঅ্যান্ডটি

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে আবারও কাজের চুক্তি পাওয়া বিশ্বজুড়ে বড় ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পেও প্রতিষ্ঠানটির কাজ চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এলঅ্যান্ডটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে ঢাকায় নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশটি হবে ভূগর্ভস্থ। অন্যদিকে, নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে। পুরো লাইনে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি রেল ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-৫-এর উত্তর রুট সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর-১৪ ও নতুন বাজার হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।

সিপি০৯ ও সিপি১০ প্যাকেজে যেসব কাজ হবে

এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে পুরো রুটে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করা হবে।

অন্যদিকে, সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) খাতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটির ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রেল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা, গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এলঅ্যান্ডটির নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি মূল্যের চুক্তিকে বড় অঙ্কের আদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি নতুন চুক্তি দুটিকে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, জাপান, চীন ও বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে। প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:৩৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৫০০ Time View

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

আপডেটের সময় : ০৬:৩৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় মেট্রোরেল সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। চুক্তি দুটির সম্মিলিত মূল্য ৫ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির বেশি।

চুক্তি অনুযায়ী, রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় এই কাজ পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি।

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয়ের পরিকল্পনা আড়াই লাখ কোটি টাকা

রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া মেট্রোরেলসহ পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে আনুমানিক ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (মেট্রোরেল লাইন-১) দুটি প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাজগুলো বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চুক্তি দুটি হলো:

কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি০৯: রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ।
কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি১০: সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং লাইন-৬ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

যা বলছে এলঅ্যান্ডটি

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে আবারও কাজের চুক্তি পাওয়া বিশ্বজুড়ে বড় ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পেও প্রতিষ্ঠানটির কাজ চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এলঅ্যান্ডটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে ঢাকায় নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশটি হবে ভূগর্ভস্থ। অন্যদিকে, নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে। পুরো লাইনে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি রেল ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-৫-এর উত্তর রুট সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর-১৪ ও নতুন বাজার হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।

সিপি০৯ ও সিপি১০ প্যাকেজে যেসব কাজ হবে

এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে পুরো রুটে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করা হবে।

অন্যদিকে, সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) খাতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটির ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রেল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা, গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এলঅ্যান্ডটির নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি মূল্যের চুক্তিকে বড় অঙ্কের আদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি নতুন চুক্তি দুটিকে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, জাপান, চীন ও বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে। প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।