ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্প কাতার প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সৌন্দর্য ও রূপচর্চায় সচেতনদের জন্য কাতারে যাত্রা শুরু করেছে নিউ আনন্দ চার ভাই সেলুন জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামানের ইন্তেকাল বিসিবিতে জমা পড়ল জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবেদন আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো”- রাণীশংকৈলে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মিজানুর রহমান। ভোলার দৌলতখানে জামাতের হামলা- শিশু সহ আহত ৬ জন তিতাসে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে বাংলা ৫২ নিউজ ডটকমের ১০ম বর্ষে পদার্পণ বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

আজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া মুক্ত দিবস

সাংবাদিক

আজ ৬ ডিসেম্বর। পটুয়াখালীর কলাপাড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মুখে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয়। অবশেষে এখানে উড়ানো হয় স্বাধীনতার পতাকা।
এ উপজেলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া যুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাবিবুল্লাহ রানা।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, হাবিবুর রহমান শওকত, নির্মল রক্ষিত, রেজাউল করিম বিশ্বাস, নাজমুল হুদা ছালেক, শাহ আলম তালুকদার, সাজ্জাদুল ইসলাম বিশ্বাস, আরিফুর রহমান মুকুল, আহম্মেদ আলী, আশরাফ আলী ও আবু তালেব।
আক্রমণ পরিচালনাকারী হাবিবুল্লাহ রানা বলেন, ৪ ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্তানী পতাকাবাহী ৮-১০ জনের একদল ‘ভাট্রি’ নামে একটি জাহাজ নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে আসছিল। গলাচিপা অতিক্রম করার সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজটির গতি রোধ করে একে তীরে নোঙ্গর করায়। জাহাজ থেকে সকলকে নামিয়ে গলাচিপার সার্কেল অফিসারের কাছে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে জাহাজটি নিয়ে তারা কলাপাড়ায় আসেন। সেই দিন রাত ৮টার দিকে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। রাত ৩টার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় আক্রমণ চালালে পাক-হানাদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে ৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে কলাপাড়াকে রাজাকার মুক্ত করা হয়।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুরো পটুয়াখালী জুড়েই মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা দ্রুত এগোতে থাকে। সুবিদখালী, মহীপুর, লতাচাপলী একটার পর একটা এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ৬ ডিসেম্বর খুব ভোরে তিন দিক থেকে ঘিরে কলাপাড়া থানায় আক্রমণ করে মুক্তি বাহিনী। এখানেই পাক সেনাদের অবস্থান ছিল। কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ের পর পাকিরা আত্মসমর্পণ করে এবং কলাপাড়া পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।
কলাপাড়া মুক্ত দিবসে মুক্তি যোদ্ধা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এই মাটির প্রতিটি মানুষের অন্তরে অন্তরে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
৬০১ Time View

আজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া মুক্ত দিবস

আপডেটের সময় : ০২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ৬ ডিসেম্বর। পটুয়াখালীর কলাপাড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মুখে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয়। অবশেষে এখানে উড়ানো হয় স্বাধীনতার পতাকা।
এ উপজেলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া যুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাবিবুল্লাহ রানা।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, হাবিবুর রহমান শওকত, নির্মল রক্ষিত, রেজাউল করিম বিশ্বাস, নাজমুল হুদা ছালেক, শাহ আলম তালুকদার, সাজ্জাদুল ইসলাম বিশ্বাস, আরিফুর রহমান মুকুল, আহম্মেদ আলী, আশরাফ আলী ও আবু তালেব।
আক্রমণ পরিচালনাকারী হাবিবুল্লাহ রানা বলেন, ৪ ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্তানী পতাকাবাহী ৮-১০ জনের একদল ‘ভাট্রি’ নামে একটি জাহাজ নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে আসছিল। গলাচিপা অতিক্রম করার সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজটির গতি রোধ করে একে তীরে নোঙ্গর করায়। জাহাজ থেকে সকলকে নামিয়ে গলাচিপার সার্কেল অফিসারের কাছে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে জাহাজটি নিয়ে তারা কলাপাড়ায় আসেন। সেই দিন রাত ৮টার দিকে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। রাত ৩টার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় আক্রমণ চালালে পাক-হানাদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে ৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে কলাপাড়াকে রাজাকার মুক্ত করা হয়।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুরো পটুয়াখালী জুড়েই মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা দ্রুত এগোতে থাকে। সুবিদখালী, মহীপুর, লতাচাপলী একটার পর একটা এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ৬ ডিসেম্বর খুব ভোরে তিন দিক থেকে ঘিরে কলাপাড়া থানায় আক্রমণ করে মুক্তি বাহিনী। এখানেই পাক সেনাদের অবস্থান ছিল। কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ের পর পাকিরা আত্মসমর্পণ করে এবং কলাপাড়া পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।
কলাপাড়া মুক্ত দিবসে মুক্তি যোদ্ধা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এই মাটির প্রতিটি মানুষের অন্তরে অন্তরে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।