ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১৩

সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল!

অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’ কি আবারও পুরনো আমলের প্রচারযন্ত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে? সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর গুলশানে চ্যানেলটির প্রধান কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনা সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সাংবাদিক ও প্রভাবশালী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সময় টিভি দখলের মিশনে নেমেছে।
হঠাৎ ‘অবৈধ’ চিঠির নাটক
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই হঠাৎ অফিসে হাজির হন পরিচালক আহমেদ জুবায়ের। তিনি বর্তমান সিইও জুবায়ের বাবুকে চাকরিচ্যুত করার একটি ‘তথাকথিত’ চিঠি ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আহমেদ জুবায়েরের এমন কোনো প্রশাসনিক এখতিয়ার নেই। জুবায়ের বাবু এই অবৈধ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলে স্টুডিও ও নিউজ রুমের শত শত সংবাদকর্মী তার সমর্থনে রাজপথে ও অফিসে অবস্থান নেন।
ভয়ংকর তথ্য: পর্দার আড়ালে ১৮০ জনের নিয়োগ!
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই-এর প্রধান সমন্বয়ক রিভু ও পাভেল এই দখলের মাস্টারমাইন্ড। নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে প্রায় ১৮০ জন আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিককে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে একটি ‘ফ্যাসিস্ট বলয়’ তৈরির কাজ শুরু করেছে এই চক্রটি।
কেন এই মরিয়া চেষ্টা?
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সময় টিভির একাংশের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট করে সমালোচিত হয়েছিল চ্যানেলটি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জুবায়ের বাবুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানে যে পেশাদারিত্ব ও ভারসাম্য ফিরেছিল, তা নস্যাৎ করতেই এই পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।
“পতিত আওয়ামী লীগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে সময় টিভি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। আমরা গণমাধ্যমকে আর কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতিয়ার হতে দেব না।”
— জুবায়ের বাবু, সিইও, সময় টিভি
সাধারণ কর্মীদের ঘোষণা: ‘দখলবাজদের ঠাঁই নেই’
দীর্ঘদিন বঞ্চনার পর সময় টিভিতে যখন শৃঙ্খলার সুবাতাস বইছিল, ঠিক তখনই এই ‘দখল’ অপচেষ্টাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন কর্মীরা। সাধারণ সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফ্যাসিস্টদের কোনো এজেন্টকে এই প্রতিষ্ঠানে আর কলকাঠি নাড়তে দেওয়া হবে না।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
সংঘাতের কেন্দ্রে: আহমেদ জুবায়ের বনাম জুবায়ের বাবু।
মূল ইন্ধনদাতা: সিআরআই ও একটি স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক সিন্ডিকেট।
বর্তমান অবস্থা: অফিসে সাংবাদিকদের সতর্ক অবস্থান, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা।
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, সময় টিভির এই সংকট কেবল একটি চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার অগ্নিপরীক্ষা।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
৫২৬ Time View

সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল!

আপডেটের সময় : ০৩:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’ কি আবারও পুরনো আমলের প্রচারযন্ত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে? সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর গুলশানে চ্যানেলটির প্রধান কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনা সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সাংবাদিক ও প্রভাবশালী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সময় টিভি দখলের মিশনে নেমেছে।
হঠাৎ ‘অবৈধ’ চিঠির নাটক
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই হঠাৎ অফিসে হাজির হন পরিচালক আহমেদ জুবায়ের। তিনি বর্তমান সিইও জুবায়ের বাবুকে চাকরিচ্যুত করার একটি ‘তথাকথিত’ চিঠি ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আহমেদ জুবায়েরের এমন কোনো প্রশাসনিক এখতিয়ার নেই। জুবায়ের বাবু এই অবৈধ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলে স্টুডিও ও নিউজ রুমের শত শত সংবাদকর্মী তার সমর্থনে রাজপথে ও অফিসে অবস্থান নেন।
ভয়ংকর তথ্য: পর্দার আড়ালে ১৮০ জনের নিয়োগ!
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই-এর প্রধান সমন্বয়ক রিভু ও পাভেল এই দখলের মাস্টারমাইন্ড। নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে প্রায় ১৮০ জন আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিককে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে একটি ‘ফ্যাসিস্ট বলয়’ তৈরির কাজ শুরু করেছে এই চক্রটি।
কেন এই মরিয়া চেষ্টা?
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সময় টিভির একাংশের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট করে সমালোচিত হয়েছিল চ্যানেলটি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জুবায়ের বাবুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানে যে পেশাদারিত্ব ও ভারসাম্য ফিরেছিল, তা নস্যাৎ করতেই এই পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।
“পতিত আওয়ামী লীগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে সময় টিভি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। আমরা গণমাধ্যমকে আর কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতিয়ার হতে দেব না।”
— জুবায়ের বাবু, সিইও, সময় টিভি
সাধারণ কর্মীদের ঘোষণা: ‘দখলবাজদের ঠাঁই নেই’
দীর্ঘদিন বঞ্চনার পর সময় টিভিতে যখন শৃঙ্খলার সুবাতাস বইছিল, ঠিক তখনই এই ‘দখল’ অপচেষ্টাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন কর্মীরা। সাধারণ সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফ্যাসিস্টদের কোনো এজেন্টকে এই প্রতিষ্ঠানে আর কলকাঠি নাড়তে দেওয়া হবে না।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
সংঘাতের কেন্দ্রে: আহমেদ জুবায়ের বনাম জুবায়ের বাবু।
মূল ইন্ধনদাতা: সিআরআই ও একটি স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক সিন্ডিকেট।
বর্তমান অবস্থা: অফিসে সাংবাদিকদের সতর্ক অবস্থান, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা।
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, সময় টিভির এই সংকট কেবল একটি চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার অগ্নিপরীক্ষা।