ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ তদন্তে সরেজমিনে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক সরকারি পত্রে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সরকারি পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই পত্রের অনুলিপি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আগেও ছিল একাধিক অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এটি কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক লেনদেন
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, দরপত্র প্রক্রিয়া, পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, গ্রেড সুবিধা গ্রহণের বৈধতা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লিখিত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মত
জনপ্রশাসন ও সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁদের ভাষ্য, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে অভিযোগের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তদন্তের মাধ্যমে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া উচিত। এতে জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এই নির্দেশনা তদন্ত শুরুর প্রশাসনিক আদেশ। এতে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেনি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

























