ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান বিএনপি সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ঢাকা-১৭ আসনের ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের কার্ড ইস্যুর সফটওয়্যার তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা

খোকসায় কিশোর ডাকাত দলের ৭ সদস্য আটক

সাংবাদিক

 খোকসা(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের চরবিহারিয়া এলাকায় শুক্রবার রাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়। রাতভর অভিযানে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।

পরে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা আরও একজনকে আটক করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চরবিহারিয়া এলাকার মাঠে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে গ্রামবাসী তাদের অনুসরণ করেন। গ্রামবাসীর ভয়ে তারা প্রথমে পানের বরোজে এবং পরে তাড়া খেয়ে পাশের হাওর নদীতে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা হাওরে নেমে কচুরিপানার মোধ্যে থেকে একজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। এরপর পুলিশ ও গ্রামবাসী মিলে এলাকায় অভিযান চালান। রাতভর চলা অভিযানে রাত ১২টার দিকে আরও তিনজন এবং ভোরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় মোট ছয়জন আটক হন। পরে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা আরও একজনকে আটক করেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট সাতজন আটক হয়েছেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ,রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাট বনগ্রাম এলাকার বহলডাঙা গ্রামের নাজিমউদ্দীনের ছেলে শামিম (১৮), লুতফর সরদারের ছেলে শাওন, ইকবালের ছেলে সাগর, মৃত মকর আলীর ছেলে আনিচ, শুকুর আলীর ছেলে সজীব মণ্ডল এবং কসবামাজাইলের লটাভাঙা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা। সর্বশেষ আটক ব্যক্তির নাম ইমরান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খোকসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন। গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের অভিযানের সময় পুলিশের পাঁচ কনস্টেবল ও এক গ্রাম পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের খোকসা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে আটক সোহেল রানার সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা নয়জন এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন।

তবে কোথায় ডাকাতি করা হবে, সে বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই গ্রামবাসীর তৎপরতা ও পুলিশের অভিযানে ছয়জন আটক হন। বাকি তিনজন পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। সোহেল আরও দাবি করেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর একতারপুর বাজারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় তাদের দলে সাতজন ছিলেন। ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া সাতজনের মধ্যে শনিবার রাতে জড়ো হওয়া নয়জনের ছয়জনই ছিলেন। তিনি নিজেও ওই ডাকাতির ঘটনায় অংশ নেওয়ার কথা জানান। উল্লেখ গত ৮ সেপ্টেম্বর খোকসা একতারপুর বাজারে সোনার দোকান সহ কয়েকটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

শনিবার দিনভর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা হাওর নদীতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালান। তবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খোকসা থানার ওসি (তদন্ত) মোশারফ হোসেন মুঠো ফোনে বিকাল সাড়ে ৫টায় জানান, বিষয়টি জটিল হওয়ায় গোপনীয়তার সাথে এগুতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রথম আটক ৬ জনের আদালতে জবান বন্দি চলছে। তারা একতারপুর হাটে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৬ Time View

খোকসায় কিশোর ডাকাত দলের ৭ সদস্য আটক

আপডেটের সময় : ০৪:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 খোকসা(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের চরবিহারিয়া এলাকায় শুক্রবার রাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়। রাতভর অভিযানে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।

পরে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা আরও একজনকে আটক করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চরবিহারিয়া এলাকার মাঠে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে গ্রামবাসী তাদের অনুসরণ করেন। গ্রামবাসীর ভয়ে তারা প্রথমে পানের বরোজে এবং পরে তাড়া খেয়ে পাশের হাওর নদীতে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা হাওরে নেমে কচুরিপানার মোধ্যে থেকে একজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। এরপর পুলিশ ও গ্রামবাসী মিলে এলাকায় অভিযান চালান। রাতভর চলা অভিযানে রাত ১২টার দিকে আরও তিনজন এবং ভোরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় মোট ছয়জন আটক হন। পরে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা আরও একজনকে আটক করেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট সাতজন আটক হয়েছেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ,রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাট বনগ্রাম এলাকার বহলডাঙা গ্রামের নাজিমউদ্দীনের ছেলে শামিম (১৮), লুতফর সরদারের ছেলে শাওন, ইকবালের ছেলে সাগর, মৃত মকর আলীর ছেলে আনিচ, শুকুর আলীর ছেলে সজীব মণ্ডল এবং কসবামাজাইলের লটাভাঙা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা। সর্বশেষ আটক ব্যক্তির নাম ইমরান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খোকসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন। গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের অভিযানের সময় পুলিশের পাঁচ কনস্টেবল ও এক গ্রাম পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের খোকসা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে আটক সোহেল রানার সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা নয়জন এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন।

তবে কোথায় ডাকাতি করা হবে, সে বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই গ্রামবাসীর তৎপরতা ও পুলিশের অভিযানে ছয়জন আটক হন। বাকি তিনজন পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। সোহেল আরও দাবি করেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর একতারপুর বাজারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় তাদের দলে সাতজন ছিলেন। ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া সাতজনের মধ্যে শনিবার রাতে জড়ো হওয়া নয়জনের ছয়জনই ছিলেন। তিনি নিজেও ওই ডাকাতির ঘটনায় অংশ নেওয়ার কথা জানান। উল্লেখ গত ৮ সেপ্টেম্বর খোকসা একতারপুর বাজারে সোনার দোকান সহ কয়েকটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

শনিবার দিনভর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা হাওর নদীতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালান। তবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খোকসা থানার ওসি (তদন্ত) মোশারফ হোসেন মুঠো ফোনে বিকাল সাড়ে ৫টায় জানান, বিষয়টি জটিল হওয়ায় গোপনীয়তার সাথে এগুতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রথম আটক ৬ জনের আদালতে জবান বন্দি চলছে। তারা একতারপুর হাটে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।