বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার গোল উৎসব
বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট দৌড়েও স্পেনের জালে একটি শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই আক্ষেপই কি এখন মেটাচ্ছে দলটি? নইলে প্রস্তুতি ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে এভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার মানসিকতা আসে কোথা থেকে!
বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এবার বুরকিনা ফাসোকেও রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। জয়টা এসেছে ৭-০ গোলের ব্যবধানে।
লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জুলিয়ানো সিমিওনে—গোলের তালিকায় নাম তুলেছেন প্রায় সবাই। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের গোলমুখে তারা শট নিয়েছে ২৮টি, যার ১৬টিই ছিল লক্ষ্যে।
তবে ম্যাচটি আদৌ মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই ছিল শঙ্কা। বুরকিনা ফাসোর আর্জেন্টিনা সফরের জন্য নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফেডারেশন বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে গেলে জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাতে যেতে রাজি হননি।
ফলে বাধ্য হয়ে কোচ আমির আব্দৌ অ-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়েন। জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র একজন—চেক বাবেল। সেই দল নিয়েই ম্যাচের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় বুরকিনা ফাসো। বিমানবন্দর থেকেই দলের সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেওয়া হয় মাঠে। অল্প সময়ের বিশ্রাম নিয়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি নামতে হয় ম্যাচে।
বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, হুট করে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি—সব মিলিয়ে বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়দের ওপর যে বড় ধাক্কা গিয়েছিল, তা মাঠের খেলাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনাও সেই সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেছে।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন বুরকিনা ফাসোর গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাউতারো।
এর ছয় মিনিট পর আলভারেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। লাউতারোর সঙ্গে দারুণ পাস দেওয়া-নেওয়ার পর নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠান তিনি।
৩৪ মিনিটে চতুর্থ গোলটি আসে নিকো পাজের পা থেকে। ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে বল জালে পাঠান তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন পাজ।
দুই মিনিট পরেই ব্যবধান ৫-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে পাওয়া বল নিখুঁতভাবে জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। ৫-০ ব্যবধানেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন লিওনেল স্কালোনি। মাঠে নামেন বালেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ও সুলে। উঠে যান রোমেরো, লিসান্দ্রো, হুলিয়ান, প্রেস্তিয়ান্নি ও নিকো পাজ।
৫৬ মিনিটের দিকে আসে ষষ্ঠ গোল। লাউতারোর বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষক এগিয়ে আসার আগেই জালে পাঠিয়ে দেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল।
এরপর আরও কয়েক দফায় বদলি খেলোয়াড় নামান স্কালোনি। নিকো গনসালেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে মাঠে আসেন। পরে সান্তি কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভ্যালেন্তিন বার্কোকেও সুযোগ দেওয়া হয়। মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বদলে নামেন হেরোনিমো রুলি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সপ্তম গোল। দুর্দান্ত এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
৭-০ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১১ গোল—আর সেই দুই ম্যাচেই গোল করেছেন ফরোয়ার্ডের পাশাপাশি মিডফিল্ডাররাও।
প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও আর্জেন্টিনার এই গোলের ক্ষুধা দেখে মনে হতেই পারে, বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই গোলশূন্য ১২০ মিনিটের জ্বালা বুঝি এখনো পুরোপুরি মেটেনি।






















বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার গোল উৎসব