ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ লিজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান জাতীয় দলের শেষ ম্যাচের আগে মেসির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা কানাডায় উচ্চশিক্ষায় নারীদের অগ্রগতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ৭১ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাথালিয়া ইউনিয়নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসংস্থানের দাবিতে রাতভর অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা হঠাৎ বন্ধ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা, জানেই না বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা

অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ

সাংবাদিক

চলাচলে বাধা, মামলা ও জরিমানার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে রিকশা ভাঙচুর ও যাত্রীদের যানবাহন থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের হাতাহাতিও হয়েছে। এতে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

রাজধানীতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন গ্যারেজে সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইন টেনে এসব বাহনে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপুল বিদ্যুৎ চুরি ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে চাপ পড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় অটোরিকশা বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় মামলা ও জরিমানাও করা হচ্ছে। চলাচলে বাধা, মামলা ও জরিমানার প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা এই প্রতিবাদ জানায়।

অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি চার্জের গ্যারেজগুলোর বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গাড়ি চার্জ দিতে না পারায় তাদের জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় অটোরিকশা জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো এবং ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানারও প্রতিবাদ জানান তারা। কয়েক দিন আগে আটক চার চালককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ তুলে তাদের মুক্তির দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে রাজধানীর সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবিও করেন তারা।
সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন, মানিকনগর, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চালকরা অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা পল্টনে জড়ো হন। পরে মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক হাজার চালক সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পল্টন, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা ও গুলিস্তান এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

অটোরিকশাচালক শ্রমিক সভাপতি এস এম আবু বক্কার বলেন, গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় হাজার হাজার চালকের জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। রাস্তায় বের হলে পুলিশি হয়রানি ও জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে। সমাবেশ থেকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে এস এম আবু বক্কার বলেন, এ সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চালকেরা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক ছেড়ে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে চলে যান। এ সময় কাকরাইল মোড়ে একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিকশাচালকদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।  দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।
ভাঙচুর, যাত্রী নামানোর অভিযোগ
রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গুলশান ও বনানীতে অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাধারণ চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দোলন সফল করতে কিছু বিক্ষোভকারী প্যাডেলচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা দেন। কয়েকটি রিকশা ভাঙচুর এবং যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৫০৪ Time View

অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ

আপডেটের সময় : ০১:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চলাচলে বাধা, মামলা ও জরিমানার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে রিকশা ভাঙচুর ও যাত্রীদের যানবাহন থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের হাতাহাতিও হয়েছে। এতে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

রাজধানীতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন গ্যারেজে সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইন টেনে এসব বাহনে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপুল বিদ্যুৎ চুরি ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে চাপ পড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় অটোরিকশা বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় মামলা ও জরিমানাও করা হচ্ছে। চলাচলে বাধা, মামলা ও জরিমানার প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা এই প্রতিবাদ জানায়।

অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি চার্জের গ্যারেজগুলোর বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গাড়ি চার্জ দিতে না পারায় তাদের জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় অটোরিকশা জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো এবং ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানারও প্রতিবাদ জানান তারা। কয়েক দিন আগে আটক চার চালককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ তুলে তাদের মুক্তির দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে রাজধানীর সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবিও করেন তারা।
সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন, মানিকনগর, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চালকরা অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা পল্টনে জড়ো হন। পরে মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক হাজার চালক সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পল্টন, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা ও গুলিস্তান এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

অটোরিকশাচালক শ্রমিক সভাপতি এস এম আবু বক্কার বলেন, গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় হাজার হাজার চালকের জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। রাস্তায় বের হলে পুলিশি হয়রানি ও জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে। সমাবেশ থেকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে এস এম আবু বক্কার বলেন, এ সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চালকেরা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক ছেড়ে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে চলে যান। এ সময় কাকরাইল মোড়ে একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিকশাচালকদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।  দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।
ভাঙচুর, যাত্রী নামানোর অভিযোগ
রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গুলশান ও বনানীতে অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাধারণ চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দোলন সফল করতে কিছু বিক্ষোভকারী প্যাডেলচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা দেন। কয়েকটি রিকশা ভাঙচুর এবং যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।