ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদায়ের রাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

সাংবাদিক

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেখানে উঠে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের প্রসঙ্গও।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় নিষ্প্রভ। ১২০ মিনিটের ম্যাচে মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। গোলের লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেননি তিনি। সেই ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

বিশেষ করে ম্যাচের পর ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন আরও বাড়ে। সেখানে মেসিকে ‘সবাই শান্ত হও’ বলতে শোনা যায়। এরপরই ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে পরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবার মেসিও বিদায়ী বক্তব্যে সেই সময়কার পরিস্থিতি পরিষ্কার করলেন।

মেসির দাবি, বিশ্বকাপের শেষদিকে দলের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ ছিল। তার ভাষায়, ‘সর্বশেষ বিশ্বকাপে অনেক বড় ধকল গেছে। আমরা আবারও পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। স্বপ্নটা ছিল আবার বিশ্বকাপ জেতা। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব কাছে ছিলাম।’

বিশ্বকাপের শেষদিকে দলের ওপর জমে থাকা চাপের পেছনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির প্রভাবও ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। তার মতে, সেই ম্যাচের চাপ সামলাতে গিয়ে দল মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেদের সীমার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

মেসি বলেন, ‘অদ্ভুত কিছু ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটা আমাদের জন্য ছিল প্রচণ্ড চাপের। বিশ্বকাপের পর অনেক তত্ত্ব আর নানা রকম গল্প ছড়িয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে আমরা সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমাদের সব সতীর্থকে নিয়ে আমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়েছি।’

অর্থাৎ ফাইনালের আগে দলের মধ্যে বড় কোনো দ্বন্দ্ব বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল, এমন ধারণা নাকচ করলেন মেসি। বরং টানা কঠিন ম্যাচ, মানসিক চাপ এবং বিশ্বকাপ জয়ের প্রবল প্রত্যাশাই শেষ ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচে অবশ্য মেসি ছিলেন দুর্দান্ত। আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ১২৬তম।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০২:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৫১০ Time View

বিদায়ের রাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

আপডেটের সময় : ০২:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেখানে উঠে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের প্রসঙ্গও।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় নিষ্প্রভ। ১২০ মিনিটের ম্যাচে মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। গোলের লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেননি তিনি। সেই ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

বিশেষ করে ম্যাচের পর ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন আরও বাড়ে। সেখানে মেসিকে ‘সবাই শান্ত হও’ বলতে শোনা যায়। এরপরই ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে পরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবার মেসিও বিদায়ী বক্তব্যে সেই সময়কার পরিস্থিতি পরিষ্কার করলেন।

মেসির দাবি, বিশ্বকাপের শেষদিকে দলের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ ছিল। তার ভাষায়, ‘সর্বশেষ বিশ্বকাপে অনেক বড় ধকল গেছে। আমরা আবারও পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। স্বপ্নটা ছিল আবার বিশ্বকাপ জেতা। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব কাছে ছিলাম।’

বিশ্বকাপের শেষদিকে দলের ওপর জমে থাকা চাপের পেছনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির প্রভাবও ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। তার মতে, সেই ম্যাচের চাপ সামলাতে গিয়ে দল মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেদের সীমার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

মেসি বলেন, ‘অদ্ভুত কিছু ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটা আমাদের জন্য ছিল প্রচণ্ড চাপের। বিশ্বকাপের পর অনেক তত্ত্ব আর নানা রকম গল্প ছড়িয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে আমরা সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমাদের সব সতীর্থকে নিয়ে আমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়েছি।’

অর্থাৎ ফাইনালের আগে দলের মধ্যে বড় কোনো দ্বন্দ্ব বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল, এমন ধারণা নাকচ করলেন মেসি। বরং টানা কঠিন ম্যাচ, মানসিক চাপ এবং বিশ্বকাপ জয়ের প্রবল প্রত্যাশাই শেষ ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচে অবশ্য মেসি ছিলেন দুর্দান্ত। আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ১২৬তম।