ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ

সাংবাদিক

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের মতো অন্য স্থানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জোরদার করতে বলা হয় বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম। এ ছাড়া ঢাকার আবাসিক হোটেলেও নজর বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনার কথা উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সভায় রাজধানীর সব অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও ৫০টি থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেছে। গতকাল পর্যন্ত ওই মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে সব গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি গতকালের বৈঠকে উঠে আসে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর কথা আলোচনায় উঠে এসেছে। ওসিরা এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় অপারেশনাল কার্যক্রম মাঠে থেকে তদারক করবেন। এ ছাড়া নিবন্ধন ছাড়া কোনো বার রাজধানীতে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে খোঁজ নেবে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধীরা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ

আপডেটের সময় : ০৪:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের মতো অন্য স্থানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জোরদার করতে বলা হয় বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম। এ ছাড়া ঢাকার আবাসিক হোটেলেও নজর বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনার কথা উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সভায় রাজধানীর সব অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও ৫০টি থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেছে। গতকাল পর্যন্ত ওই মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে সব গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি গতকালের বৈঠকে উঠে আসে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর কথা আলোচনায় উঠে এসেছে। ওসিরা এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় অপারেশনাল কার্যক্রম মাঠে থেকে তদারক করবেন। এ ছাড়া নিবন্ধন ছাড়া কোনো বার রাজধানীতে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে খোঁজ নেবে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধীরা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।