ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বিদায়ের দিনে রোনালদোর বিস্ফোরক বিবৃতি

সাংবাদিক

লিওনেল মেসি আজ আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন। ঠিক একই দিনে পর্তুগাল ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার কাছে প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়, বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে এখন যে আলোচনা চলছে, সেটিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সাম্প্রতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোনালদো জানান, বিশ্বকাপের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান কোচের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। রোনালদোর দাবি, তিনি কোচকেই সঠিক পছন্দ হিসেবে সমর্থন করেছিলেন।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্টে কোচ তাকে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, প্রথম ও শেষ ম্যাচে তাকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।

রোনালদো জানান, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর বিষয়ে কোচ জানতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজি হন এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ওয়ার্ম-আপ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

রোনালদোর অভিযোগ, এ ঘটনা নিয়ে পরে কোচ ও তার মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কুতিনহোর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, সংবাদ সম্মেলনে কোচ বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং জানাবেন, পুরো পরিকল্পনাটি তারই ছিল। রোনালদোর দাবি, তাকে অতিরিক্ত সময় খেলার সুযোগ চাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় এবং তাকে দীর্ঘ সময় ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানোও কোচের সিদ্ধান্ত ছিল।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য সেই সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে অভিযোগ রোনালদোর। তার দাবি, সেখানে তার বিরুদ্ধে এমন কিছু কঠোর মন্তব্য করা হয়, যা তিনি প্রাপ্য মনে করেননি। এটিকে তিনি কোচের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দ্বিতীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোনালদো আরও বলেন, প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি কখনো কোনো কোচের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে তার সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখা না হলে জাতীয় দলে তার থাকা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য সতীর্থদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন রোনালদো। নিজের সিদ্ধান্তের পুরো দায়ভার নিয়ে তিনি বলেন, দলনেতা হিসেবে তার এই আচরণ শাস্তিযোগ্য। এমনকি এফপিএফকে তাকে কোনো ছাড় না দিয়ে শাস্তি দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে রোনালদো নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন। তার ভাষায়, জাতীয় দলের জার্সিতে তার কাছে কোনো কিছুই বিনামূল্যে পাওয়া নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচই প্রতিযোগিতার অংশ। বাবার মৃত্যুর পরও পরের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকার উদাহরণ টেনে তিনি দেশের হয়ে খেলার প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

শেষে রোনালদো স্পষ্ট করে জানান, ফিট থাকলে পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। ‘আমি যদি ফিট থাকি, তাহলে পর্তুগালের হয়ে জিততে এবং লড়াই করতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত থাকব। এটিই চরম সত্য।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৫০৮ Time View

মেসির বিদায়ের দিনে রোনালদোর বিস্ফোরক বিবৃতি

আপডেটের সময় : ০১:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

লিওনেল মেসি আজ আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন। ঠিক একই দিনে পর্তুগাল ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার কাছে প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়, বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে এখন যে আলোচনা চলছে, সেটিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সাম্প্রতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোনালদো জানান, বিশ্বকাপের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান কোচের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। রোনালদোর দাবি, তিনি কোচকেই সঠিক পছন্দ হিসেবে সমর্থন করেছিলেন।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্টে কোচ তাকে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, প্রথম ও শেষ ম্যাচে তাকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।

রোনালদো জানান, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর বিষয়ে কোচ জানতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজি হন এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ওয়ার্ম-আপ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

রোনালদোর অভিযোগ, এ ঘটনা নিয়ে পরে কোচ ও তার মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কুতিনহোর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, সংবাদ সম্মেলনে কোচ বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং জানাবেন, পুরো পরিকল্পনাটি তারই ছিল। রোনালদোর দাবি, তাকে অতিরিক্ত সময় খেলার সুযোগ চাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় এবং তাকে দীর্ঘ সময় ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানোও কোচের সিদ্ধান্ত ছিল।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য সেই সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে অভিযোগ রোনালদোর। তার দাবি, সেখানে তার বিরুদ্ধে এমন কিছু কঠোর মন্তব্য করা হয়, যা তিনি প্রাপ্য মনে করেননি। এটিকে তিনি কোচের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দ্বিতীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোনালদো আরও বলেন, প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি কখনো কোনো কোচের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে তার সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখা না হলে জাতীয় দলে তার থাকা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য সতীর্থদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন রোনালদো। নিজের সিদ্ধান্তের পুরো দায়ভার নিয়ে তিনি বলেন, দলনেতা হিসেবে তার এই আচরণ শাস্তিযোগ্য। এমনকি এফপিএফকে তাকে কোনো ছাড় না দিয়ে শাস্তি দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে রোনালদো নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন। তার ভাষায়, জাতীয় দলের জার্সিতে তার কাছে কোনো কিছুই বিনামূল্যে পাওয়া নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচই প্রতিযোগিতার অংশ। বাবার মৃত্যুর পরও পরের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকার উদাহরণ টেনে তিনি দেশের হয়ে খেলার প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

শেষে রোনালদো স্পষ্ট করে জানান, ফিট থাকলে পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। ‘আমি যদি ফিট থাকি, তাহলে পর্তুগালের হয়ে জিততে এবং লড়াই করতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত থাকব। এটিই চরম সত্য।’