ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা জামাল উদ্দিনকে জাবির সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবি

সাংবাদিক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনুকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি জাবি উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছেন সাবেক জাকসু ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপাচার্যকে দেওয়া স্মারকলিপিতে অধ্যাপক রুনুর বিগত চার দশকের রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক অবদানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন সাবেক ছাত্রনেতারা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ফুল নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে তিনি আবারো জাবির সিনেট সদস্য পদে পুনঃনির্বাচিত হন।

তাঁর একাডেমিক জীবনের কথা তুলে ধরে এতে জানানো হয়, জাবির ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন অধ্যাপক রুনু। এরপর নরওয়ের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নিজের প্রিয় কর্মস্থল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের শাসনামলে ক্যাম্পাসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত ১,৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে জাবি ও সাভার অঞ্চলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান ও সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।

শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় জাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ফেনীর দুর্গত এলাকায় সক্রিয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন অধ্যাপক রুনু। এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারিক আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেননি, বরং নিজের যোগ্যতা ও সততার ওপর ভর করেই পথ চলেছেন।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন জাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস, এজিএস সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন মেয়াদের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।

এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া আরমান বলেন, দুঃসময়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধরে রাখা এবং প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কারণেই এতদিন তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক গতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই তাঁকে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৭ Time View

খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা জামাল উদ্দিনকে জাবির সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবি

আপডেটের সময় : ০৫:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনুকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি জাবি উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছেন সাবেক জাকসু ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপাচার্যকে দেওয়া স্মারকলিপিতে অধ্যাপক রুনুর বিগত চার দশকের রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক অবদানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন সাবেক ছাত্রনেতারা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ফুল নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে তিনি আবারো জাবির সিনেট সদস্য পদে পুনঃনির্বাচিত হন।

তাঁর একাডেমিক জীবনের কথা তুলে ধরে এতে জানানো হয়, জাবির ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন অধ্যাপক রুনু। এরপর নরওয়ের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নিজের প্রিয় কর্মস্থল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের শাসনামলে ক্যাম্পাসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত ১,৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে জাবি ও সাভার অঞ্চলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান ও সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।

শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় জাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ফেনীর দুর্গত এলাকায় সক্রিয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন অধ্যাপক রুনু। এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারিক আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেননি, বরং নিজের যোগ্যতা ও সততার ওপর ভর করেই পথ চলেছেন।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন জাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস, এজিএস সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন মেয়াদের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।

এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া আরমান বলেন, দুঃসময়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধরে রাখা এবং প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কারণেই এতদিন তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক গতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই তাঁকে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।