ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফয়সল পটকা মাছ খেয়ে মুদি দোকানির মৃত্যু, অসুস্থ মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়লেন জ্যোতি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ ১৪ মাস পর ডলার বিক্রি শুরু করল বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ‘একক এখতিয়ার নেই’: জাহেদ উর রহমান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সাংবাদিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এলাকায় দুই জায়গায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘হই হই রই রই ছাত্রদল গেলি কই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সেই সন্ত্রাসীদেরকে ১৮ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে ছাত্র জনতা বিতাড়িত করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেবে না।

শিপন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা সুযোগ বুঝে নাম মাত্র পদত্যাগ করে হলে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।

এদিকে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদ ও ঘটনার তদন্তের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র নেতৃবৃন্দ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট ৩ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। দাবিগুলো হলো—  অবিলম্বে এই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এখনো যেসকল কর্মী ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এর আগে, রাত সাড়ে ১০টার পর জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরে ও শহীদ মিনার আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকায় দুটি ও টিএসসি সংলগ্ন মেট্রোরেলের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীস পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটু আগে ককটেল ফাটানো হয়েছে আমি নিজেও শব্দ শুনেছি। শব্দ শোনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাউস টিউটরকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগতকে হলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রাং বলেন, ওখানে পুলিশ আছে, আমাদের প্রক্টরিয়াল টিমও আছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কী ঘটেছে, ককটেল নাকি হাতবোমা নাকি অন্য কিছু। পুলিশ ও আমাদের প্রশাসন যৌথভাবে বিষয়টি দেখছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

আপডেটের সময় : ০৩:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এলাকায় দুই জায়গায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘হই হই রই রই ছাত্রদল গেলি কই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সেই সন্ত্রাসীদেরকে ১৮ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে ছাত্র জনতা বিতাড়িত করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেবে না।

শিপন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা সুযোগ বুঝে নাম মাত্র পদত্যাগ করে হলে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।

এদিকে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদ ও ঘটনার তদন্তের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র নেতৃবৃন্দ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট ৩ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। দাবিগুলো হলো—  অবিলম্বে এই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এখনো যেসকল কর্মী ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এর আগে, রাত সাড়ে ১০টার পর জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরে ও শহীদ মিনার আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকায় দুটি ও টিএসসি সংলগ্ন মেট্রোরেলের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীস পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটু আগে ককটেল ফাটানো হয়েছে আমি নিজেও শব্দ শুনেছি। শব্দ শোনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাউস টিউটরকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগতকে হলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রাং বলেন, ওখানে পুলিশ আছে, আমাদের প্রক্টরিয়াল টিমও আছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কী ঘটেছে, ককটেল নাকি হাতবোমা নাকি অন্য কিছু। পুলিশ ও আমাদের প্রশাসন যৌথভাবে বিষয়টি দেখছে।