ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামায়াতের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, কুমিল্লা মহানগরী কার্যালয়ে ভাঙচুর হাসানুল হক ইনুকে নেওয়া হলো ঢামেক হাসপাতালে ফিনল্যাল্ডের যুবক জামালপুরে এসে বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে প্রযুক্তির ভিড়ে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে দারোয়ানের বক্তব্যে সামনে এলো নতুন তথ্য কুমিল্লা থেকে ‘নিখোঁজ’ চার স্কুলছাত্রী হবিগঞ্জে উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ বেতন বাড়ানোর দাবিতে উত্তরা রাজলক্ষ্মীতে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার-৩ দেশে টানা ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ যে এলাকায় আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা-ছেলের মৃত্যু

তাজমিন হত্যাকাণ্ডে দারোয়ানের বক্তব্যে সামনে এলো নতুন তথ্য

সাংবাদিক

জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাসার গেট বন্ধ থাকার বিষয়টি। রাত ১টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাজমিনের মা-বাবার কাছে চাবি ছিল বলে জানিয়েছেন বাসার দারোয়ান বাছির। তাঁর দাবি, চাবি না পেলেও তাজমিন চাইলে ডাক দিয়ে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারতেন। অন্যদিকে, তাজমিনের কথিত প্রেমিক রাজু দাবি করেছিলেন, গেট বন্ধ থাকায় তিনি বাসায় যাননি।

বাছির জানান, গত আট বছরে ওই বাসায় কোনো খারাপ ঘটনা দেখেননি তিনি। তাজমিন সেখানে এলে গাড়ির শব্দও তাঁর কানে আসত বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করেছে বলে জানান বাছির।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তাঁর অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজুর সঙ্গে তাঁর দেখা-সাক্ষাৎ ও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। এসব বিষয়ে জানতে গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা ডিবি রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও হোটেলসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজু ও তাজমিন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর লেখা হয়। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের একসঙ্গে বের হতে দেখা গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তিনি। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে যান বলে জানা গেছে। কুমিল্লায় ফেরার জন্য রাজু তাঁর আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের টিকিট কেটে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় ও হোটেল-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, কুমিল্লা ডিবি রাজুকে ফেরত দেওয়ার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

তাজমিনের সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের ধরন, তাঁদের যোগাযোগের কারণ এবং হত্যা মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
৫১৪ Time View

তাজমিন হত্যাকাণ্ডে দারোয়ানের বক্তব্যে সামনে এলো নতুন তথ্য

আপডেটের সময় : ১১:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাসার গেট বন্ধ থাকার বিষয়টি। রাত ১টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাজমিনের মা-বাবার কাছে চাবি ছিল বলে জানিয়েছেন বাসার দারোয়ান বাছির। তাঁর দাবি, চাবি না পেলেও তাজমিন চাইলে ডাক দিয়ে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারতেন। অন্যদিকে, তাজমিনের কথিত প্রেমিক রাজু দাবি করেছিলেন, গেট বন্ধ থাকায় তিনি বাসায় যাননি।

বাছির জানান, গত আট বছরে ওই বাসায় কোনো খারাপ ঘটনা দেখেননি তিনি। তাজমিন সেখানে এলে গাড়ির শব্দও তাঁর কানে আসত বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করেছে বলে জানান বাছির।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তাঁর অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজুর সঙ্গে তাঁর দেখা-সাক্ষাৎ ও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। এসব বিষয়ে জানতে গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা ডিবি রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও হোটেলসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজু ও তাজমিন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর লেখা হয়। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের একসঙ্গে বের হতে দেখা গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তিনি। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে যান বলে জানা গেছে। কুমিল্লায় ফেরার জন্য রাজু তাঁর আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের টিকিট কেটে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় ও হোটেল-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, কুমিল্লা ডিবি রাজুকে ফেরত দেওয়ার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

তাজমিনের সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের ধরন, তাঁদের যোগাযোগের কারণ এবং হত্যা মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।