ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন- ১৬ বাংলাদেশির মৃত্য এসএসসির ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ গাজীপুরে যুবদল নেতার ওপর সশস্ত্র হামলা, আহত ২: বিএনপির তীব্র নিন্দা কলমাকান্দায় আদিবাসী দিবস পালন কোটালীপাড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ নারীরা নেতৃত্বের সুযোগ পেলে শক্তিশালী হবে দেশের ভবিষ্যৎ গোপালগঞ্জ জেলা বিটিএসএফের কমিটি ঘোষণা সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মুনের বাজিমাত, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীসহ ৫ ক্যাটাগরিতে সেরা সৌদি আরব ভিশন ২০৩০:মানে নতুন বিনিয়োগ নতুন ব্যাবসা আর নতুন কর্মসংস্হান এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশী ব্যাবসায়িরা আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা প্রত্যাহার

বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরাম জোটের জয়লাভ

সাংবাদিক

রেডিসন হোটেলে বিজিএমইএ এর নির্বাচনে বিজয়ী ফোরামের প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সুমাইয়া ইসলাম রোজালিনসহ বিজয়ীদের উল্লাস

 

বিজিএমইএ’র ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করেছে ‘ফোরাম’ জোট। ঢাকায় ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে ফোরাম জোট পেয়েছে ২৫টি এবং চট্টগ্রামে ৯টি পরিচালক পদের মধ্যে পাঁচটি পদে জয়লাভ করেছেন এই জোটের প্রার্থীরা। নির্বাচিত পরিচালকরা আগামী ২ জুন ভোট দিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু–-তে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট টানা বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট এক হাজার ৮৬৪ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজার ৬৩১ ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক হাজার ৩৭৭ ও চট্টগ্রামে ২৫৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮৭ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র এবারের নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অংশ নেন মোট ৭৬ জন প্রার্থী। ফোরাম জোট ও সম্মিলিত পরিষদ ৩৫টি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী দেয়। বাকি ৬ জন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৫৪টি ভোটের মধ্যে বাতিল হয় ৬টি। মোট ৯টি পরিচালক পদের বিপরীতে ফোরাম জোট ৫টি পদে জয়ী হয়।

নির্বাচনে প্যানেল লিডার হিসেবে ফোরাম জোটের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। পাশাপাশি সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম।

ফোরামের ঢাকা অঞ্চলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান (১১৪৯), শাহ রাঈদ চৌধুরী (১১২৩), মিজানুর রহমান (১০৬৬), এম এ রহিম (১০১৪), ফয়সাল সামাদ (৯৯২), ইনামুল হক খান (৯৬৬), ভিদিয়া অমৃত খান (৯৫৭), মো. হাসিব উদ্দিন (৯৫১), রেজওয়ান সেলিম (৯৪১), মোহাম্মদ আবদুস সালাম (৯৪০), মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী (৯২৯), নাফিস-উদ-দৌলা (৯১৯), সুমাইয়া ইসলাম (৯০৯), ফাহিমা আক্তার (৮৫৩), মজুমদার আরিফুর রহমান (৮৫০), আনোয়ার হোসেন চৌধুরী (৮৪৯), শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ (৮৪৭), কাজী মিজানুর রহমান (৮৪৫), জোয়াদ্দার মোহাম্মদ হোসনে কামার আলম (৮৪২), এ বি এম শামছুদ্দিন (৮৪০), আসেফ কামাল পাশা (৮৩৬), ড. রশীদ আহমেদ হোসাইনী (৮২৪), ফারুক হাসান (৮১৩ ফোরামের প্রার্থী), রুমানা রশীদ (৮১১), মোহাম্মদ সোহেল (৮০৭), সামিহা আজিম (৭৯৯) ।

এই জোটের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- সেলিম রহমান (১০৫৮), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৯৭৯), সাকিফ আহমেদ সালাম (৯৪৪), মো. শরীফ উল্লাহ (৯২৭), মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী (৯১৯), এনামুল আজিজ চৌধুরী (৮৯০)। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (৯৫০), এস এম আবু তৈয়ব (৮৩৫) ও রাকিবুল আলম চৌধুরী (৮৩১)।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফোরামের প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, ফোরাম ঘোষিত ইশতেহারে অগ্রাধিকারগুলো বলা আছে। সে মোতাবেক আমরা কাজ করবো। এই মুহূর্তে শিল্পে অগ্রাধিকার হচ্ছে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা। এছাড়া আমাদের সামনে যখন যে চ্যালেঞ্জ আসবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ করবো। আমরা মালিকের কল্যাণ নিয়ে কাজ করবো, শ্রমিকের কল্যাণ নিয়েও কাজ করবো। সামনে এলডিসি গ্রাজুয়েশন আছে, মার্কিন ট্যারিফ ইস্যু আছে- এগুলোর পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং এক্সিট প্ল্যান নিয়ে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র বড় সৌন্দর্য হচ্ছে নির্বাচনের আগে এক-দুই মাস আমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। নির্বাচনের পরে সবাই একসঙ্গে কাজ করি। আমি মনে করি যেই ৭৬ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা সবাই বিজয়ী হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান বলেন, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। কারণ দিনশেষে বিজিএমইএ সদস্যদের সংগঠন। এটার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি জড়িত। পোশাক শিল্প হচ্ছে লাইফলাইন অব দ্য ইকোনমি। সুতরাং একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের ইকোনমি ভালো হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেটের সময় : ০২:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
১৫৫০ Time View

বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরাম জোটের জয়লাভ

আপডেটের সময় : ০২:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

বিজিএমইএ’র ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করেছে ‘ফোরাম’ জোট। ঢাকায় ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে ফোরাম জোট পেয়েছে ২৫টি এবং চট্টগ্রামে ৯টি পরিচালক পদের মধ্যে পাঁচটি পদে জয়লাভ করেছেন এই জোটের প্রার্থীরা। নির্বাচিত পরিচালকরা আগামী ২ জুন ভোট দিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু–-তে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট টানা বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট এক হাজার ৮৬৪ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজার ৬৩১ ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক হাজার ৩৭৭ ও চট্টগ্রামে ২৫৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮৭ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র এবারের নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অংশ নেন মোট ৭৬ জন প্রার্থী। ফোরাম জোট ও সম্মিলিত পরিষদ ৩৫টি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী দেয়। বাকি ৬ জন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৫৪টি ভোটের মধ্যে বাতিল হয় ৬টি। মোট ৯টি পরিচালক পদের বিপরীতে ফোরাম জোট ৫টি পদে জয়ী হয়।

নির্বাচনে প্যানেল লিডার হিসেবে ফোরাম জোটের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। পাশাপাশি সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম।

ফোরামের ঢাকা অঞ্চলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান (১১৪৯), শাহ রাঈদ চৌধুরী (১১২৩), মিজানুর রহমান (১০৬৬), এম এ রহিম (১০১৪), ফয়সাল সামাদ (৯৯২), ইনামুল হক খান (৯৬৬), ভিদিয়া অমৃত খান (৯৫৭), মো. হাসিব উদ্দিন (৯৫১), রেজওয়ান সেলিম (৯৪১), মোহাম্মদ আবদুস সালাম (৯৪০), মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী (৯২৯), নাফিস-উদ-দৌলা (৯১৯), সুমাইয়া ইসলাম (৯০৯), ফাহিমা আক্তার (৮৫৩), মজুমদার আরিফুর রহমান (৮৫০), আনোয়ার হোসেন চৌধুরী (৮৪৯), শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ (৮৪৭), কাজী মিজানুর রহমান (৮৪৫), জোয়াদ্দার মোহাম্মদ হোসনে কামার আলম (৮৪২), এ বি এম শামছুদ্দিন (৮৪০), আসেফ কামাল পাশা (৮৩৬), ড. রশীদ আহমেদ হোসাইনী (৮২৪), ফারুক হাসান (৮১৩ ফোরামের প্রার্থী), রুমানা রশীদ (৮১১), মোহাম্মদ সোহেল (৮০৭), সামিহা আজিম (৭৯৯) ।

এই জোটের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- সেলিম রহমান (১০৫৮), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৯৭৯), সাকিফ আহমেদ সালাম (৯৪৪), মো. শরীফ উল্লাহ (৯২৭), মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী (৯১৯), এনামুল আজিজ চৌধুরী (৮৯০)। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (৯৫০), এস এম আবু তৈয়ব (৮৩৫) ও রাকিবুল আলম চৌধুরী (৮৩১)।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফোরামের প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, ফোরাম ঘোষিত ইশতেহারে অগ্রাধিকারগুলো বলা আছে। সে মোতাবেক আমরা কাজ করবো। এই মুহূর্তে শিল্পে অগ্রাধিকার হচ্ছে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা। এছাড়া আমাদের সামনে যখন যে চ্যালেঞ্জ আসবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ করবো। আমরা মালিকের কল্যাণ নিয়ে কাজ করবো, শ্রমিকের কল্যাণ নিয়েও কাজ করবো। সামনে এলডিসি গ্রাজুয়েশন আছে, মার্কিন ট্যারিফ ইস্যু আছে- এগুলোর পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং এক্সিট প্ল্যান নিয়ে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র বড় সৌন্দর্য হচ্ছে নির্বাচনের আগে এক-দুই মাস আমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। নির্বাচনের পরে সবাই একসঙ্গে কাজ করি। আমি মনে করি যেই ৭৬ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা সবাই বিজয়ী হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান বলেন, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। কারণ দিনশেষে বিজিএমইএ সদস্যদের সংগঠন। এটার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি জড়িত। পোশাক শিল্প হচ্ছে লাইফলাইন অব দ্য ইকোনমি। সুতরাং একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের ইকোনমি ভালো হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।