ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম স্থগিত করলেন মার্কিন আদালত

সাংবাদিক

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার নতুন নিয়ম আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়ম কার্যকরের এক দিন আগে সোমবার তা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রাথমিকভাবে নতুন নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে মামলার মূল প্রশ্নে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন নিয়মটি প্রস্তাব করেছিল। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।

নতুন নিয়মে বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস করার কথা ছিল। এরপর একই মেয়াদের জন্য ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যেত।

বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকেরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম আরও কঠোর। তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও ৯০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন ভিসা বিধির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সেলার নতুন নিয়ম কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।

রায়ের সঙ্গে দেওয়া এক স্মারকে বিচারক নতুন নিয়ম নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় গত কয়েক দশকে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।

বিচারকের মতে, সেই ব্যবস্থা উন্নত করার পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি কর্মসূচি নিয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএসকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বিচারক সেলার।

তিনি বলেন, সীমিত ও অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডিএইচএসের একজন কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।

বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হলে সাংবাদিকদেরও কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আপিলের সুযোগ থাকবে না।

বিচারক আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন-এমন বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন নিয়ম প্রস্তাবের সময় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছিল ডিএইচএস। তবে বিচারক সেলার এ যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নিরাপত্তার এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্যতার সীমার কাছাকাছি নয়।

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠোর করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষ দেশ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম স্থগিত করলেন মার্কিন আদালত

আপডেটের সময় : ০৪:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার নতুন নিয়ম আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়ম কার্যকরের এক দিন আগে সোমবার তা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রাথমিকভাবে নতুন নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে মামলার মূল প্রশ্নে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন নিয়মটি প্রস্তাব করেছিল। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।

নতুন নিয়মে বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস করার কথা ছিল। এরপর একই মেয়াদের জন্য ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যেত।

বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকেরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম আরও কঠোর। তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও ৯০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন ভিসা বিধির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সেলার নতুন নিয়ম কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।

রায়ের সঙ্গে দেওয়া এক স্মারকে বিচারক নতুন নিয়ম নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় গত কয়েক দশকে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।

বিচারকের মতে, সেই ব্যবস্থা উন্নত করার পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি কর্মসূচি নিয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএসকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বিচারক সেলার।

তিনি বলেন, সীমিত ও অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডিএইচএসের একজন কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।

বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হলে সাংবাদিকদেরও কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আপিলের সুযোগ থাকবে না।

বিচারক আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন-এমন বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন নিয়ম প্রস্তাবের সময় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছিল ডিএইচএস। তবে বিচারক সেলার এ যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নিরাপত্তার এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্যতার সীমার কাছাকাছি নয়।

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠোর করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষ দেশ।