ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে ১৫ কেজি গাঁজার চালান, নারীসহ গ্রেপ্তার ২ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশগুলোর তালিকা করেছে ইসরায়েল দিনভর ভোগান্তির পর সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১০৯ কোটি ঘনফুট অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল ব্রাজিল চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ, প্রতিবাদ জামায়াতের মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি, ১২ নির্দেশনা মাদারীপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে ৩ প্রাণহানি, আহত অন্তত ২৫ মালয়েশিয়ার কাছে হারে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের সিংগাইরে রাতের আধারে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ

লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে

সাংবাদিক

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে। এতে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জোটটি।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তাকে সরিয়ে নিয়ে সংবাদ চালিয়ে যান জোট নেতারা।

এতে জানানো হয়, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলাচত্বরে সমাবেশের পর শনিবার সকাল আটটায় শুরু হবে লংমার্চ। এতে দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে। পথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নয়, ১১ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এইসব সভায় যোগ দেবেন। রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘী ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে লংমার্চ।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, সরকারি দল ক্ষমতায় আসার ছয় মাসে জনআস্থা হারাচ্ছে। সরকারি দল বা প্রশাসন লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে আরও আস্থা হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হবে। আশা করি এরকম অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দল কেউ পা বাড়াবে না।

সরকারের সমালোচনায় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, বুঝি ছয় মাস যথেষ্ট নয়। অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করাও সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার চেষ্টা নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে- ১১ দলের এ দাবি তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন,  গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে। আমরা সরকার উৎখাতের আন্দোলন করছি না। জনগণের দাবি হল, গণভোটের গণরায়কে মেনে নেন।

সহিংসতার রাজনীতির সংস্কৃতি থেকে বিরোধী দল বেরিয়ে এসেছে মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রমাণিত হোক সরকারি দল এবং বিরোধীদলের পরমতসহিষ্ণুতা রয়েছে। নিরাপদ শান্তিপূর্ণ লংমার্চে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কারণ নেই।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগ এড়াতে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা পথসভায় যোগ দেবেন না। নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। পথসভা সংক্ষিপ্ত রাখতে ১১ দলের সব শীর্ষ নেতাও বক্তৃতা করবেন না। চলমান অবস্থায় লংমার্চে কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে। তবে হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে। শক্ত জবাবও পাবে।

পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ১১ দলের বৈঠক হয়। এলডিপির জোট নেতারা অংশ নেন। এদিকে শুক্রবার রাজধানীতে থানায় লংমার্চের প্রচার চালাতে জামায়াত মিছিল করে।

কৌশলে বাধার অভিযোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সরকারের কৌশলে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি। শুক্রবার নগরীর চকবাজারের চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলো দুই মন্ত্রীর নামে বুকিং দেখিয়ে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিন ও মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবও কথা বলেন। লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৬৯ Time View

লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে

আপডেটের সময় : ০৩:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে। এতে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জোটটি।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তাকে সরিয়ে নিয়ে সংবাদ চালিয়ে যান জোট নেতারা।

এতে জানানো হয়, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলাচত্বরে সমাবেশের পর শনিবার সকাল আটটায় শুরু হবে লংমার্চ। এতে দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে। পথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নয়, ১১ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এইসব সভায় যোগ দেবেন। রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘী ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে লংমার্চ।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, সরকারি দল ক্ষমতায় আসার ছয় মাসে জনআস্থা হারাচ্ছে। সরকারি দল বা প্রশাসন লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে আরও আস্থা হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হবে। আশা করি এরকম অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দল কেউ পা বাড়াবে না।

সরকারের সমালোচনায় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, বুঝি ছয় মাস যথেষ্ট নয়। অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করাও সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার চেষ্টা নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে- ১১ দলের এ দাবি তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন,  গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে। আমরা সরকার উৎখাতের আন্দোলন করছি না। জনগণের দাবি হল, গণভোটের গণরায়কে মেনে নেন।

সহিংসতার রাজনীতির সংস্কৃতি থেকে বিরোধী দল বেরিয়ে এসেছে মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রমাণিত হোক সরকারি দল এবং বিরোধীদলের পরমতসহিষ্ণুতা রয়েছে। নিরাপদ শান্তিপূর্ণ লংমার্চে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কারণ নেই।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগ এড়াতে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা পথসভায় যোগ দেবেন না। নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। পথসভা সংক্ষিপ্ত রাখতে ১১ দলের সব শীর্ষ নেতাও বক্তৃতা করবেন না। চলমান অবস্থায় লংমার্চে কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে। তবে হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে। শক্ত জবাবও পাবে।

পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ১১ দলের বৈঠক হয়। এলডিপির জোট নেতারা অংশ নেন। এদিকে শুক্রবার রাজধানীতে থানায় লংমার্চের প্রচার চালাতে জামায়াত মিছিল করে।

কৌশলে বাধার অভিযোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সরকারের কৌশলে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি। শুক্রবার নগরীর চকবাজারের চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলো দুই মন্ত্রীর নামে বুকিং দেখিয়ে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিন ও মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবও কথা বলেন। লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত।