ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা থাকার অভিযোগ, প্রমাণ চায় জামায়াত

সাংবাদিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে দলটি। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের তথ্যকে কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগ নয়: জামায়াত

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে না ধরে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।

অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কে তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান

বিবৃতিতে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা উচিত।

এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানের বিরোধিতা করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক বক্তব্য খণ্ডন করা সমীচীন নয় বলেও উল্লেখ করেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ডিএনসিসি প্রশাসকের প্রতি তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

মিরপুরে অনুষ্ঠানে অটোরিকশা আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ শীর্ষক একটি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ওই সময় অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অটোরিকশার পক্ষে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে।

একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের অটোরিকশাচালকদের দাবির পক্ষে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো প্রসঙ্গে তিনি বক্তব্য দেন। পরে অনুসন্ধানে ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

তবে অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭০০টি অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে অভিযোগটি ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে-এমন তথ্য এখানে নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৫০৩ Time View

গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা থাকার অভিযোগ, প্রমাণ চায় জামায়াত

আপডেটের সময় : ১১:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে দলটি। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের তথ্যকে কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগ নয়: জামায়াত

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে না ধরে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।

অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কে তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান

বিবৃতিতে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা উচিত।

এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানের বিরোধিতা করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক বক্তব্য খণ্ডন করা সমীচীন নয় বলেও উল্লেখ করেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ডিএনসিসি প্রশাসকের প্রতি তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

মিরপুরে অনুষ্ঠানে অটোরিকশা আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ শীর্ষক একটি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ওই সময় অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অটোরিকশার পক্ষে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে।

একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের অটোরিকশাচালকদের দাবির পক্ষে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো প্রসঙ্গে তিনি বক্তব্য দেন। পরে অনুসন্ধানে ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

তবে অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭০০টি অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে অভিযোগটি ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে-এমন তথ্য এখানে নেই।