ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি এক গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ রাঙালেন মেসি নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ লিজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান জাতীয় দলের শেষ ম্যাচের আগে মেসির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা কানাডায় উচ্চশিক্ষায় নারীদের অগ্রগতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ৭১ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাথালিয়া ইউনিয়নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসংস্থানের দাবিতে রাতভর অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা

এক গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ রাঙালেন মেসি

সাংবাদিক

শেষবারের মতো জাতীয় সংগীত। শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের হাজারো কণ্ঠে নিজের নাম শুনলেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে মাঠের দিকে তাকালেন, যেন নিজের দুই দশকের গল্পটাকে একবারে চোখের সামনে দেখতে চাইলেন। তারপর বল পায়ে নেমে যা করলেন, সেটিও ছিল মেসিসুলভ।

বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দিয়ে শেষ হলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের পথচলা। বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে ধরলেন, তখন বুঝে নেওয়া গেল, সত্যিই শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।

ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল উৎসবের মঞ্চে। এজেইজা থেকে স্টেডিয়ামে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সমর্থকদের ঢল। বাসের ভেতর থেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।

স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। মাঠে ওয়ার্ম-আপে এসে দুই হাত তুলে গ্যালারির প্রতিটি অংশকে অভিবাদন জানাতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। এরপর ঘোষকের কণ্ঠে শেষবারের মতো শোনা গেল, ‘আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।’

জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির চোখে জল, একই দৃশ্য দেখা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও। যে জার্সিতে ২১ বছর ধরে একটি জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন, সেই জার্সিতে দাঁড়িয়ে শেষবার জাতীয় সংগীত গাইলেন তিনি।

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন বেনিন গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকও রুখে দেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এর মধ্যেই আসে রাতের সবচেয়ে প্রতীকী মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন মেসিকে সম্মান জানাতে। ৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, এমনকি বেনিনের খেলোয়াড়েরাও যোগ দেন করতালিতে। এক মিনিট ধরে শুধু মেসির জন্যই থেমে থাকে খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো এই ম্যাচটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ। গোলের কিছুক্ষণ পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।

এরপর আবারও মেসির পাস থেকে গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। তার নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বিদায়ী ম্যাচে এ নিয়ে দুটি গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।

এরপর ৬৮ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ৭১ মিনিটে গোল করেন মেসি। তার শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি বেনিন গোলরক্ষক। জাতীয় দলের হয়ে এটি মেসির ১২৬তম গোল।

শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি জালে জড়ায়নি।

শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও তাকে শুভেচ্ছা জানান। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে এসেছে ব্যর্থতা, কান্না, সমালোচনা, ফাইনালে হার। এসেছে কোপা আমেরিকার শিরোপা, ফাইনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য আর্জেন্টিনার মানুষ ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছিল, সেটিও এনে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গল্পের শেষ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৮ অ্যাসিস্ট।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৩১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৫০৭ Time View

এক গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ রাঙালেন মেসি

আপডেটের সময় : ১১:৩১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শেষবারের মতো জাতীয় সংগীত। শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের হাজারো কণ্ঠে নিজের নাম শুনলেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে মাঠের দিকে তাকালেন, যেন নিজের দুই দশকের গল্পটাকে একবারে চোখের সামনে দেখতে চাইলেন। তারপর বল পায়ে নেমে যা করলেন, সেটিও ছিল মেসিসুলভ।

বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দিয়ে শেষ হলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের পথচলা। বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে ধরলেন, তখন বুঝে নেওয়া গেল, সত্যিই শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।

ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল উৎসবের মঞ্চে। এজেইজা থেকে স্টেডিয়ামে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সমর্থকদের ঢল। বাসের ভেতর থেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।

স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। মাঠে ওয়ার্ম-আপে এসে দুই হাত তুলে গ্যালারির প্রতিটি অংশকে অভিবাদন জানাতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। এরপর ঘোষকের কণ্ঠে শেষবারের মতো শোনা গেল, ‘আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।’

জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির চোখে জল, একই দৃশ্য দেখা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও। যে জার্সিতে ২১ বছর ধরে একটি জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন, সেই জার্সিতে দাঁড়িয়ে শেষবার জাতীয় সংগীত গাইলেন তিনি।

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন বেনিন গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকও রুখে দেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এর মধ্যেই আসে রাতের সবচেয়ে প্রতীকী মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন মেসিকে সম্মান জানাতে। ৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, এমনকি বেনিনের খেলোয়াড়েরাও যোগ দেন করতালিতে। এক মিনিট ধরে শুধু মেসির জন্যই থেমে থাকে খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো এই ম্যাচটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ। গোলের কিছুক্ষণ পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।

এরপর আবারও মেসির পাস থেকে গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। তার নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বিদায়ী ম্যাচে এ নিয়ে দুটি গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।

এরপর ৬৮ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ৭১ মিনিটে গোল করেন মেসি। তার শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি বেনিন গোলরক্ষক। জাতীয় দলের হয়ে এটি মেসির ১২৬তম গোল।

শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি জালে জড়ায়নি।

শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও তাকে শুভেচ্ছা জানান। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে এসেছে ব্যর্থতা, কান্না, সমালোচনা, ফাইনালে হার। এসেছে কোপা আমেরিকার শিরোপা, ফাইনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য আর্জেন্টিনার মানুষ ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছিল, সেটিও এনে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গল্পের শেষ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৮ অ্যাসিস্ট।