ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির তোড়জোড়

সারাদেশে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সশরীরে গিয়ে নির্ধারিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে বড় একটি চিত্র– চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনই করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশে অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন করেছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এ হিসাবে পাস করা প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তির আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। তারা কেন আবেদন করেনি, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এর ব্যাখ্যা নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন।

বিপুল আসন, কম শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার দেশের আট হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন ২৬ লাখ এক হাজার ৭৭৯টি। বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থীর। ফলে মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। ভর্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তন) এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার পর প্রকৃত খালি আসনের চিত্র স্পষ্ট হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্বিতীয় ধাপের ফল অনুযায়ী, এ ধাপে আট লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়ে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়।

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। এর পর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে এ ফি যথাক্রমে তিন হাজার ও চার হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার টাকা।

৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০০ Time View

কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির তোড়জোড়

আপডেটের সময় : ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদেশে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সশরীরে গিয়ে নির্ধারিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে বড় একটি চিত্র– চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনই করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশে অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন করেছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এ হিসাবে পাস করা প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তির আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। তারা কেন আবেদন করেনি, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এর ব্যাখ্যা নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন।

বিপুল আসন, কম শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার দেশের আট হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন ২৬ লাখ এক হাজার ৭৭৯টি। বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থীর। ফলে মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। ভর্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তন) এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার পর প্রকৃত খালি আসনের চিত্র স্পষ্ট হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্বিতীয় ধাপের ফল অনুযায়ী, এ ধাপে আট লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়ে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়।

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। এর পর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে এ ফি যথাক্রমে তিন হাজার ও চার হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার টাকা।

৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।