ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য : আইজিপির অপসারণ চায় এনসিপি সাভারে ডিবির অভিযানে চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার উদ্ধার বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক মঙ্গলবার ‘এই মুহূর্তে গণঅধিকার পরিষদ সরে গেলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে’ রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকে নতুন এমডি ও সিইও নিয়োগ বিগ ব্যাশে দল পেলেন মুস্তাফিজ চট্টগ্রামে এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা/ ‘বিরোধীদলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে গেলে কী করবেন’ বন্ধ হয়ে গেছে ৮৫টি হাসকিং মিল, বেকার হাজারো শ্রমিক ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য : আইজিপির অপসারণ চায় এনসিপি

সাংবাদিক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কর্তৃক সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

দলটির মতে, পুলিশ প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থীই নয়, বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক পাঁয়তারা। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আইজিপির অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দলটির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শক মন্তব্য করেছেন যে, “সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে”। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়—সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিলো, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অবসান ঘটানো হবে”। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এহেন উচ্চারণ স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সাথে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎ নজির৷

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শতশত নেতাকর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস দেশবাসীর চোখের সামনে এখনও স্পষ্ট। বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে, বর্তমান সময়ে এসে পুনরায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা জোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।

অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি বলেন, সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিষ্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সকল ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
৫১০ Time View

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য : আইজিপির অপসারণ চায় এনসিপি

আপডেটের সময় : ১১:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কর্তৃক সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

দলটির মতে, পুলিশ প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থীই নয়, বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক পাঁয়তারা। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আইজিপির অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দলটির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শক মন্তব্য করেছেন যে, “সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে”। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়—সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিলো, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অবসান ঘটানো হবে”। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এহেন উচ্চারণ স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সাথে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎ নজির৷

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শতশত নেতাকর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস দেশবাসীর চোখের সামনে এখনও স্পষ্ট। বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে, বর্তমান সময়ে এসে পুনরায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা জোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।

অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি বলেন, সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিষ্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সকল ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।