ট্রাম্পের ‘মেইল ব্যালট’ বিধিনিষেধ খারিজ করলেন সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেইল ব্যালট বিধিনিষেধ আপাতত খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল সোমবার দেওয়া এ আদেশের ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ এরই মধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ার পর শেষ মুহূর্তের আইনি তৎপরতার অবসান ঘটল। এ সিদ্ধান্তের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত একই প্রক্রিয়ার অধীনে মেইল ব্যালট পাঠানো অব্যাহত রাখার অনুমতি পেল।
বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস এ সংক্ষিপ্ত আদেশের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তবে বিচারপতি ব্রেট কাভানা একমত হয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া উচিত নয়। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিতে পারেন।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্য নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিধিনিষেধগুলোর পথ পরিষ্কার করতে আবারও সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এ মামলার বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে, কারণ দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার ডাকযোগে (মেইলে) ভোট দেন।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার কোনো উপায় ছিল না। বস্তুত, নতুন ব্যবস্থাটি তখনো সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে অ্যালাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যগুলো ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠাতে শুরু করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলোকে একটি অভিন্ন খামের ধরন গ্রহণ করতে হবে এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকা একটি অনলাইন পোর্টালে জমা দিতে হবে। যেসব অঙ্গরাজ্য এ নিয়ম মানবে না, ডাক বিভাগ (পোস্টাল সার্ভিস) সেখানে ব্যালট সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত।
তবে এক হুইসেলব্লোয়ারের বরাতে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাক ব্যবস্থার এসব শর্তের কারণে লাখ লাখ মেইল ব্যালট কখনোই পাঠানো নাও হতে পারে। কারণ, পোর্টালটি সঠিকভাবে তৈরি করা হয়নি এবং একটিমাত্র বারকোড ত্রুটির কারণে পুরো এক ব্যাচ ব্যালট বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ডেমোক্র্যাটিক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা ও ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করা গোষ্ঠীগুলো আদালতে এসব বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে। তাদের যুক্তি ছিল, একটি বড় নির্বাচনের প্রাক্কালে মেইল ভোটিং কার্যত মুছে ফেলার মতো নির্বাচনী নিয়ম নির্ধারণের কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। নিম্ন আদালতগুলো এতে সম্মত হয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আটকে দিয়েছিল, যার মধ্যে খোদ প্রেসিডেন্টের মনোনীত এক বিচারকের জারি করা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে যুক্তি দেয়, ডাক বিভাগের ওপর ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ তাদের মেইল ব্যালট পরিচালনার জন্য নিয়ম নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেয় এবং এ নিয়ম মেনে চলা সম্ভব ছিল। ফেডারেল সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রাথমিক পদ্ধতিগত সিদ্ধান্তে জয়লাভ করলেও বিচারপতিরা স্পষ্টভাবেই এ পরিকল্পনার বৈধতার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মেইল ভোটিংয়ের বিরোধিতা করে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে তার হারের জন্য এটিকে দায়ী করে আসছেন। যদিও তিনি নিজেই ভোট দেওয়ার জন্য প্রায়ই এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যার মধ্যে চলতি বছরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র:- এপি।






















আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ