ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ শেষ হলেও ভেনেজুয়েলার মতো ইরান থেকে তেল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেল নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন।

রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এক গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি আবারও দাবি করেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এমনকি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে-তবে তেল ধরে রাখার জন্য সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির তুলনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে আয় করছে, তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ বহুবার পরিশোধ করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান বলেও জানান ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়-এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না।

ইরান নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে।

ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রোববার সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগস্টে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই চুক্তির সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি তুলনা করে নতুন ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০০ Time View

যুদ্ধ শেষ হলেও ভেনেজুয়েলার মতো ইরান থেকে তেল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৪:২৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেল নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন।

রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এক গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি আবারও দাবি করেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এমনকি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে-তবে তেল ধরে রাখার জন্য সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির তুলনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে আয় করছে, তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ বহুবার পরিশোধ করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান বলেও জানান ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়-এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না।

ইরান নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে।

ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রোববার সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগস্টে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই চুক্তির সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি তুলনা করে নতুন ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।