ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত ধাপে স্থানীয় নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর

সাংবাদিক

দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বাস্তবায়নে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সাতটি ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দেশে বর্তমানে মোট চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে, যার মধ্যে চার ২৭২টি ইউনিয়ন নির্বাচনের আওতাভুক্ত। ইতিমধ্যে অনেকগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বা নির্বাচনের সময় পার হয়ে গেছে। পরীক্ষাসমূহ (বার্ষিক ও বোর্ড পরীক্ষা), পবিত্র ঈদ এবং দুর্গাপূজাসহ নানা সার্বজনীন বিষয় বিবেচনায় রেখে সাতটি ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী—

প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর (৮০টি উপজেলার সব ইউপিতে ভোট)

দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর

তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর

চতুর্থ ধাপ: ১৭ জানুয়ারি

পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি

ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল

সপ্তম ধাপ: ২৭ মে

ইসি সানাউল্লাহ জানান, প্রথম পাঁচটি ধাপে দেশের সিংহভাগ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপে আইনি জটিলতা বা অন্য কারণে স্থগিত থাকা ইউনিয়নগুলোর ভোটগ্রহণ হবে।

তিনি আরও জানান, উপনির্বাচন চলমান থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলা বাদ রেখে প্রথম ধাপে দেশের বাকি ৬৩টি জেলার সব সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে একযোগে নির্বাচন শুরু হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ঠাকুরগাঁও জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় বসবে কমিশন।

আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন বা সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজকের সভায় নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে গত সাত সেপ্টেম্বর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধাপে ধাপে উপজেলাভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব সেদিন জানান, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই নির্বাচনে প্রচারে আর কোনো কাগজের পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না।

তার আগে ৩১ আগস্ট চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেসব নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটার সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ১৯৬৫ লাখ ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত হালনাগাদে মোট ভোটার বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন।

এদিকে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো সাধারণ নাগরিক বৈধ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই গ্রহণ করবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৭ Time View

সাত ধাপে স্থানীয় নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর

আপডেটের সময় : ১১:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বাস্তবায়নে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সাতটি ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দেশে বর্তমানে মোট চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে, যার মধ্যে চার ২৭২টি ইউনিয়ন নির্বাচনের আওতাভুক্ত। ইতিমধ্যে অনেকগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বা নির্বাচনের সময় পার হয়ে গেছে। পরীক্ষাসমূহ (বার্ষিক ও বোর্ড পরীক্ষা), পবিত্র ঈদ এবং দুর্গাপূজাসহ নানা সার্বজনীন বিষয় বিবেচনায় রেখে সাতটি ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী—

প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর (৮০টি উপজেলার সব ইউপিতে ভোট)

দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর

তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর

চতুর্থ ধাপ: ১৭ জানুয়ারি

পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি

ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল

সপ্তম ধাপ: ২৭ মে

ইসি সানাউল্লাহ জানান, প্রথম পাঁচটি ধাপে দেশের সিংহভাগ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপে আইনি জটিলতা বা অন্য কারণে স্থগিত থাকা ইউনিয়নগুলোর ভোটগ্রহণ হবে।

তিনি আরও জানান, উপনির্বাচন চলমান থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলা বাদ রেখে প্রথম ধাপে দেশের বাকি ৬৩টি জেলার সব সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে একযোগে নির্বাচন শুরু হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ঠাকুরগাঁও জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় বসবে কমিশন।

আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন বা সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজকের সভায় নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে গত সাত সেপ্টেম্বর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধাপে ধাপে উপজেলাভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব সেদিন জানান, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই নির্বাচনে প্রচারে আর কোনো কাগজের পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না।

তার আগে ৩১ আগস্ট চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেসব নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটার সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ১৯৬৫ লাখ ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত হালনাগাদে মোট ভোটার বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন।

এদিকে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো সাধারণ নাগরিক বৈধ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই গ্রহণ করবে।