গাজীপুরে গৃহবধূ মিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী আল আমিন বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার।
প্রতিনিধি: সামাদ খন্দকার, গাজীপুর।
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন পগলারপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ মিম আক্তার (১৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মো: আল আমিনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা। হত্যার পর আত্মগোপনে থাকা আল আমিনকে মাত্র ২ দিনের মাথায় বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত মো: আল আমিন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার আমতৈল এলাকার মৃত লতিফের ছেলে। তিনি স্ত্রী মিমকে নিয়ে গাজীপুরের বাসন থানার পগলারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক।
পিবিআই জানায়, গত ২৫ জুলাই আল আমিনের বোন মিমের কাছ থেকে নগদ ৫,০০০ টাকা জুয়ার পাওনা পরিশোধের জন্য ধার নেন। পরে ২৭ জুলাই আল আমিন বোনকে না জানিয়ে সেই টাকা ফেরত এনে জুয়া খেলে শেষ করেন। পরবর্তীতে মিম টাকা ফেরত আনতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্বামীর সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আল আমিন মিমকে শারীরিক নির্যাতন করলে মিম অভিমান করে তার ছোট বোনের ভাড়া বাসায় চলে যান।
ঐদিন (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন ও তার মা জাহানারা বেগম (৪৭) মিমকে বুঝিয়ে তার বোনের বাসায় ঘুমাতে বলেন। পরবর্তীকালে গভীর রাতে (২৮ জুলাই রাত ১২:০০ থেকে ০৪:০০ টার মধ্যে) আল আমিন ও তার মা শাশুড়ি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিমের মাথা, কপাল, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে এবং গলার নালি কেটে নৃশংভাবে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা পালিয়ে যান। ২৮ জুলাই সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় মিমের ভাই মো: শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৮ জুলাই গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৫১) দায়ের করেন। পরবর্তীকালে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি আভিযানিক দল ৩০ জুলাই ভোর ০৫:০০ ঘটিকায় বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন পারিবারিক কলহ ও জুয়ার টাকার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি (শাশুড়ি)-কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





















