ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় করনীয় – আবদুস সাত্তার দুলাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের বৈঠক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ গাজীপুরে গৃহবধূ মিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী আল আমিন বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার। হত্যাচেষ্টা মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন, শুনানি বৃহস্পতিবার প্রায় ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে নেত্রকোণার পূর্বধলা পৌরসভা কোটালীপাড়ায় কৃষক কার্ড হালনাগাদ কাযক্রম পরিদর্শনে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার খেলাধুলা মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, তবুও রক্ষা পেল না কোটালীপাড়ার মাদক সম্রাট সজিব; ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় করনীয় – আবদুস সাত্তার দুলাল

সাংবাদিক

বাংলাদেশ একসময় পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ারকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়মহান মুক্তিযুদ্ধদীর্ঘ নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধে বহু সেনাসদস্যবিভিন্ন পেশার মানুষ আহতনিহত হন, অনেকে হারানতাঁদের সহায়-সম্বলঅসংখ্য মা-বোন নির্যাতনের শিকারহনঅনেক নববিবাহিত যুবক বাসর ঘরে না গিয়ে দেশেরস্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেন; তাঁদের অনেকেই আর ফিরেআসেননি

অবশেষে ত্যাগরক্তের বিনিময়ে আমাদের এই ভূখণ্ডস্বাধীনতা লাভ করেপৃথিবীর মানচিত্রেবাংলাদেশনামেএকটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেআমরা একটি স্বাধীনসার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জন করে, যাআন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেভৌগোলিকঅবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণরাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়

দেশের সীমানা একটি ভৌতরাজনৈতিক সীমারেখা, যারমাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারিত হয়বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,১৩৮ কিলোমিটারএর মধ্যে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার, মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার এবং জলসীমা প্রায় ৭১১ কিলোমিটার, যার একটি অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত

স্বাধীনতার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিলমানবাধিকারপ্রতিষ্ঠিত হবে, দারিদ্র্য কমবে, বৈষম্য দূর হবে এবং সকলনাগরিকের সমমর্যাদানিরাপত্তা নিশ্চিত হবেআমরাআশা করেছিলাম বাংলাদেশ একটি উন্নত, স্থিতিশীলনিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে ভৌগোলিক অবস্থানবিরোধহীনটেকসই থাকবেবাস্তবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাঅপরিসীম, এবং এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য দেশেরমানুষের মধ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও রয়েছে

বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রতিবাদী চেতনালক্ষ্যঅর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকার বারবার প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন তার একটিউল্লেখযোগ্য উদাহরণবিশেষ করে দেশের কলেজবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় স্বার্থে সবসময় গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে তবে দুঃখজনকভাবেদায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অনেক সময় এই সম্ভাবনাগুলোযথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হনরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেওপ্রয়োজনীয়কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি দেখা যায়ফলেঅনেক সম্ভাবনাময় নাগরিক দেশের উন্নয়নে প্রত্যাশিতঅবদান রাখতে পারছেন নাএকই সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীতাদের মেধা কাজে লাগানোর সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়েপড়ছে এবং অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে

অন্যদিকে, দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, দক্ষদায়িত্বশীল পেশাজীবীরসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছেএর ফলে সাধারণনাগরিকরা নানামুখী জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেনসঠিক দিকনির্দেশনাপ্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবেঅনেকেই নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতেপারছেন না এবং ধীরে ধীরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এরঅধিকাংশ নাগরিক কূলকিনারা না পেয়ে লাভের আশায়দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা বহন করছেনকেউ কেউ জীবিকারতাগিদে অনৈতিকঅসম্মানজনক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েপড়ছেন, যা ব্যক্তি, সমাজরাষ্ট্রসবার জন্যই উদ্বেগজনক

বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত হলেওসীমান্ত ব্যবস্থাপনার কিছু দুর্বলতার কারণে প্রায়ই বন্যাঅন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়এর ফলে মানুষআর্থিকসামাজিকউভয় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়; অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটেপ্রতিবছরই কোনো না কোনোসীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশের দিক থেকে অতিরিক্তপানি প্রবেশের ফলে বন্যা দেখা দেয়এতে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্তহয়, শিশুসহ অনেকে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে পড়ে এবং বিভিন্নরোগে আক্রান্ত হয়দীর্ঘমেয়াদে অনেক পরিবার দারিদ্র্যেরচক্রে আটকে যায়

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর২০২৪ সালেও বৃহত্তর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোমারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়এতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষক্ষতিগ্রস্ত হয়এসব বন্যায় মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, কৃষিজ সম্পদক্ষুদ্র ব্যবসা হারায়পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানক্ষতিগ্রস্ত হয়, করদাতার সংখ্যা কমে যায় এবং অবকাঠামো, শিক্ষাঅন্যান্য নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়ফলে রাষ্ট্রের ওপরআর্থিক চাপ বৃদ্ধি পায়, কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবংসামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠানরাষ্ট্রসব স্তরের স্থিতিশীলতার ওপর

বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা টেকসই না হওয়ায়, শুধুপ্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাচ্ছেস্বাধীনতার পর থেকেই নানা অনিয়মঅনৈতিক কর্মকাণ্ডদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেঅবৈধভাবে সীমান্তঅতিক্রম করে মানুষের যাতায়াত, গবাদিপশুবিভিন্ন পণ্যেরচোরাচালান এবং মাদকের অবৈধ লেনদেন প্রতিনিয়ত ঘটছেএসব কারণে বাংলাদেশ আর্থিকসামাজিকউভয় দিকথেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আব্দুল হামিদ খানভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে একটি ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়এই দিনটি প্রতিবছর স্মরণ করা হয়এরমূল উদ্দেশ্য ছিল তিস্তা-সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহস্বাভাবিক রাখা, কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধ করা এবং পলিমাটিরস্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে দেশের টেকসই উন্নয়নসীমান্তনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরবাস্তবসম্মত পদক্ষেপগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব হতে পারেআন্তর্জাতিক আইন মেনে সমগ্র সীমান্তজুড়ে একটি টেকসইসীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং এর পাশাপাশি সমান্তরাল খালখননের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাএর ফলেসীমান্ত সুরক্ষা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণেওইতিবাচক প্রভাব পড়বে

দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমকার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশকে একটি শক্তভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভবএতে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতহওয়ার পাশাপাশি দেশে নতুন নতুন উদ্যোগের সৃষ্টি হবে এবংঅর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবেফলস্বরূপ, দেশধীরে ধীরে সমৃদ্ধিস্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যেতে পারবে

তবেধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোগুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবেবাংলাদেশের একজনসচেতন নাগরিক হিসেবে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটারসীমান্তজুড়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে একটি টেকসইঅবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরী অর্থাসীমান্ত এলাকাজুড়েকমপক্ষে ১০ ইঞ্চি পাশ ও ১০ ফুট উচ্চতা দিয়ে একটিটেকসই সীমানা প্রাচীরনির্মাণ করতে হবে যেসব স্থান দিয়েপার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পানি প্রবাহিত হতে পারে, সেই সবযায়গায় প্রাচীরের নিচ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখে ছোট ছোটছিদ্র রাখা যেতে পারে যা দিয়ে পানি এসে উক্ত খালে পড়বে

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি নিম্নভূমি অঞ্চল, যেখানেগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনাএই তিনটি প্রধান নদীতাদেরঅসংখ্য শাখা-প্রশাখা মিলিত হয়েছেউজানের দেশগুলো(ভারত, নেপাল, ভুটান) থেকে অতিরিক্ত পানি নেমে এলে তাবাংলাদেশে জমা হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে

বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট কারণ কিংবা পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্টবন্যায় যে ক্ষতি হয়, প্রস্তাবিত সীমান্ত সুরক্ষা করনীয় কার্যক্রমবাস্তবায়নের মাধ্যমে তা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভববিশেষকরে অপরিকল্পিত পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তবর্তীএলাকা কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যার তীব্রতা কমিয়েআনা যেতে পারে

এছাড়া উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উজানেরপানিপ্রবাহের সুষ্ট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রমেঘনা সহ সংশ্লিষ্ট নদী ব্যবস্থার উন্নয়নএসব উদ্যোগগ্রহণের মাধ্যমে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভবএরফলে অতিরিক্ত পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারবে এবং বন্যারঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে

বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচি যথাযথভাবেবাস্তবায়িত হলে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার ক্ষয়ক্ষতিঝুঁকিআরও কমে আসবে বলে আশা করা যায়

প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার, নির্দিষ্ট দূরত্বপরপর লাইট স্থাপন এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রিতপানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাতে প্রাকৃতিকপানিপ্রবাহ ব্যাহত না হয় এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তাও বজায়থাকে

প্রস্তাবিত সীমানা প্রাচীর থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরত্বে কমপক্ষে১৫ ফুট গভীর এবং ১০০ ফুট প্রশস্ত একটি খাল খনন করাযেতে পারেখালের পাড় যাতে ভেঙ্গে না যায়, সে জন্য তামজবুতভাবে নির্মাণসংরক্ষণ করতে হবেখালটিবঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হলেঅতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, যা বন্যানিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে

এই বৃহকার্যক্রমের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে দেশের সেনাবাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায়২৫ হাজার সদস্যকে বাছাই করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যনির্মাণকাজে যুক্ত করা যেতে পারেপাশাপাশি উদ্যমীদেশপ্রেমিক তরুণদের মধ্য থেকে নীতিমালা অনুসরণ করেআরও ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে

উক্ত দুই শ্রেণির জনবল নির্ধারিত কাজ সফলভাবে সম্পন্নকরতে পারলে তাঁদের পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র প্রদান করাযেতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেসহায়ক হবেবাহিনীর সদস্যদের জন্য এটি পদোন্নতি বাবেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেকাজশুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের ১–২ দিনের প্রাথমিকধারণামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজনএভাবে মোট প্রায়৫০ হাজার জনবল এই প্রকল্পের প্রধান কর্মশক্তি হিসেবে কাজকরবেপ্রয়োজনে প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন জনবলঅন্তর্ভুক্ত করে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেতে পারেএই প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিকলক্ষ ৭২ হাজার কোটিটাকা ব্যয় হতে পারে

সমগ্র সীমান্তজুড়ে প্রতি কিলোমিটারে ৫টি ভূমিহীন পরিবারকেপুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারেখালের পাশ থেকেপ্রায় ২০ ফুট ফাঁকা রেখে ৫০ ফুট প্রশস্ত এলাকায় ২৫ বছরেরঅস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করা যেতেপারেএভাবে প্রায় ২২ হাজার পরিবার পুনর্বাসনের সুযোগপাবে

প্রতি ১০টি পরিবার নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা যেতে পারে, যেখানেসদস্যের একটি কমিটি থাকবেএকজন সভাপতি, একজন সচিবএকজন কোষাধ্যক্ষ; বাকিরা সাধারণ সদস্যহিসেবে যুক্ত থাকবেএই সমিতিগুলোর দায়িত্ব হবে নির্দিষ্টএলাকার (প্রায়কিলোমিটার) সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কেবিজিবিকে তথ্য সরবরাহ করা এবং প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্টব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেতোলা

সরকার প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে প্রায়লক্ষ টাকাঋণ সহায়তা দিতে পারে, যা দিয়ে তারা আবাসন নির্মাণেরপাশাপাশি কৃষি, মৎস্যচাষপশুপালন কার্যক্রম শুরু করতেপারবেএই ঋণ ১০ বছরের মধ্যে মাত্র ৫% সুদে ১২০ কিস্তিতেপরিশোধের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ২২ হাজার পরিবারেরএই পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৫ হাজারকোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল প্রয়োজন হতে পারে

পুনর্বাসিত পরিবারগুলো বরাদ্দকৃত জমিখালের যথাযথব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করবেপ্রতিটি পরিবার খালসহআনুমানিক ২৫০ ফুট প্রস্থ এবং ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জমিব্যবহার করতে পারবেতারা খালে মাছ চাষ, হাঁস পালন এবংজমিতে মুরগি, গরু বা ছাগল পালন করতে পারবেপাশাপাশি ধান, শাকসবজিঅন্যান্য ফসল উৎপাদনেরমাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেপারবে

প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর সীমান্ত এলাকায় ২০ সদস্যবিশিষ্টএকটি বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারেক্যাম্পেরদায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০টি সমিতিরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেনএসব বৈঠকের মাধ্যমেসমিতিগুলোর কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহমূল্যায়ন করা সম্ভব হবেপুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড, যারা সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে

সরকার চাইলে ধাপে ধাপে ১০ বছরের মধ্যে এই সীমান্ত সুরক্ষাকার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেএতে দেশের নাগরিকরাস্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং সীমান্ত রক্ষায় সহযোগীশক্তিতে পরিণত হবেঅবৈধ যাতায়াত হ্রাস পাবে, চোরাচালানক্ষতিকর পণ্যের প্রবেশ কমবে এবংনাগরিকদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবেঅর্থনৈতিককর্মকাণ্ড বাড়বে, মানুষ আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবংবন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকি কমবে

সর্বোপরি, একটি সুপরিকল্পিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেসবার আগে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবংপ্রায় ২২ হাজার ভূমিহীন পরিবারের জীবন-জীবিকা টেকসইভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবেএর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটিনিরাপদ, দারিদ্র্যমুক্তমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে আরওদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে

সামগ্রিকভাবে, ইহার ফলে সুপরিকল্পিতসমন্বিত সীমান্তব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শুধু ২২,০০০ ভূমিহীন পরিবারের জন্যইনয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্যও টেকসই জীবিকা নিশ্চিতকরার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে একযুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবেসীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরা, সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকঅর্থনৈতিক সুযোগ প্রসারের মাধ্যমেধরনের একটি উদ্যোগদীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্থিতিশীলতাসহনশীলতায় অবদানরাখতে পারবেএভাবে বাংলাদেশ আরও বেশিআত্মবিশ্বাসের সাথে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, দারিদ্র্যমুক্তমর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
৫৪৫ Time View

বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় করনীয় – আবদুস সাত্তার দুলাল

আপডেটের সময় : ০১:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ একসময় পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ারকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়মহান মুক্তিযুদ্ধদীর্ঘ নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধে বহু সেনাসদস্যবিভিন্ন পেশার মানুষ আহতনিহত হন, অনেকে হারানতাঁদের সহায়-সম্বলঅসংখ্য মা-বোন নির্যাতনের শিকারহনঅনেক নববিবাহিত যুবক বাসর ঘরে না গিয়ে দেশেরস্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেন; তাঁদের অনেকেই আর ফিরেআসেননি

অবশেষে ত্যাগরক্তের বিনিময়ে আমাদের এই ভূখণ্ডস্বাধীনতা লাভ করেপৃথিবীর মানচিত্রেবাংলাদেশনামেএকটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেআমরা একটি স্বাধীনসার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জন করে, যাআন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেভৌগোলিকঅবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণরাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়

দেশের সীমানা একটি ভৌতরাজনৈতিক সীমারেখা, যারমাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারিত হয়বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,১৩৮ কিলোমিটারএর মধ্যে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার, মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার এবং জলসীমা প্রায় ৭১১ কিলোমিটার, যার একটি অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত

স্বাধীনতার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিলমানবাধিকারপ্রতিষ্ঠিত হবে, দারিদ্র্য কমবে, বৈষম্য দূর হবে এবং সকলনাগরিকের সমমর্যাদানিরাপত্তা নিশ্চিত হবেআমরাআশা করেছিলাম বাংলাদেশ একটি উন্নত, স্থিতিশীলনিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে ভৌগোলিক অবস্থানবিরোধহীনটেকসই থাকবেবাস্তবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাঅপরিসীম, এবং এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য দেশেরমানুষের মধ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও রয়েছে

বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রতিবাদী চেতনালক্ষ্যঅর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকার বারবার প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন তার একটিউল্লেখযোগ্য উদাহরণবিশেষ করে দেশের কলেজবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় স্বার্থে সবসময় গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে তবে দুঃখজনকভাবেদায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অনেক সময় এই সম্ভাবনাগুলোযথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হনরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেওপ্রয়োজনীয়কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি দেখা যায়ফলেঅনেক সম্ভাবনাময় নাগরিক দেশের উন্নয়নে প্রত্যাশিতঅবদান রাখতে পারছেন নাএকই সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীতাদের মেধা কাজে লাগানোর সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়েপড়ছে এবং অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে

অন্যদিকে, দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, দক্ষদায়িত্বশীল পেশাজীবীরসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছেএর ফলে সাধারণনাগরিকরা নানামুখী জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেনসঠিক দিকনির্দেশনাপ্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবেঅনেকেই নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতেপারছেন না এবং ধীরে ধীরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এরঅধিকাংশ নাগরিক কূলকিনারা না পেয়ে লাভের আশায়দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা বহন করছেনকেউ কেউ জীবিকারতাগিদে অনৈতিকঅসম্মানজনক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েপড়ছেন, যা ব্যক্তি, সমাজরাষ্ট্রসবার জন্যই উদ্বেগজনক

বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত হলেওসীমান্ত ব্যবস্থাপনার কিছু দুর্বলতার কারণে প্রায়ই বন্যাঅন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়এর ফলে মানুষআর্থিকসামাজিকউভয় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়; অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটেপ্রতিবছরই কোনো না কোনোসীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশের দিক থেকে অতিরিক্তপানি প্রবেশের ফলে বন্যা দেখা দেয়এতে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্তহয়, শিশুসহ অনেকে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে পড়ে এবং বিভিন্নরোগে আক্রান্ত হয়দীর্ঘমেয়াদে অনেক পরিবার দারিদ্র্যেরচক্রে আটকে যায়

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর২০২৪ সালেও বৃহত্তর সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোমারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়এতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষক্ষতিগ্রস্ত হয়এসব বন্যায় মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, কৃষিজ সম্পদক্ষুদ্র ব্যবসা হারায়পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানক্ষতিগ্রস্ত হয়, করদাতার সংখ্যা কমে যায় এবং অবকাঠামো, শিক্ষাঅন্যান্য নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়ফলে রাষ্ট্রের ওপরআর্থিক চাপ বৃদ্ধি পায়, কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবংসামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠানরাষ্ট্রসব স্তরের স্থিতিশীলতার ওপর

বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা টেকসই না হওয়ায়, শুধুপ্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাচ্ছেস্বাধীনতার পর থেকেই নানা অনিয়মঅনৈতিক কর্মকাণ্ডদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেঅবৈধভাবে সীমান্তঅতিক্রম করে মানুষের যাতায়াত, গবাদিপশুবিভিন্ন পণ্যেরচোরাচালান এবং মাদকের অবৈধ লেনদেন প্রতিনিয়ত ঘটছেএসব কারণে বাংলাদেশ আর্থিকসামাজিকউভয় দিকথেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আব্দুল হামিদ খানভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে একটি ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়এই দিনটি প্রতিবছর স্মরণ করা হয়এরমূল উদ্দেশ্য ছিল তিস্তা-সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহস্বাভাবিক রাখা, কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধ করা এবং পলিমাটিরস্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে দেশের টেকসই উন্নয়নসীমান্তনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরবাস্তবসম্মত পদক্ষেপগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব হতে পারেআন্তর্জাতিক আইন মেনে সমগ্র সীমান্তজুড়ে একটি টেকসইসীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং এর পাশাপাশি সমান্তরাল খালখননের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাএর ফলেসীমান্ত সুরক্ষা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণেওইতিবাচক প্রভাব পড়বে

দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমকার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশকে একটি শক্তভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভবএতে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতহওয়ার পাশাপাশি দেশে নতুন নতুন উদ্যোগের সৃষ্টি হবে এবংঅর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবেফলস্বরূপ, দেশধীরে ধীরে সমৃদ্ধিস্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যেতে পারবে

তবেধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোগুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবেবাংলাদেশের একজনসচেতন নাগরিক হিসেবে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটারসীমান্তজুড়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে একটি টেকসইঅবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরী অর্থাসীমান্ত এলাকাজুড়েকমপক্ষে ১০ ইঞ্চি পাশ ও ১০ ফুট উচ্চতা দিয়ে একটিটেকসই সীমানা প্রাচীরনির্মাণ করতে হবে যেসব স্থান দিয়েপার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পানি প্রবাহিত হতে পারে, সেই সবযায়গায় প্রাচীরের নিচ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখে ছোট ছোটছিদ্র রাখা যেতে পারে যা দিয়ে পানি এসে উক্ত খালে পড়বে

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি নিম্নভূমি অঞ্চল, যেখানেগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনাএই তিনটি প্রধান নদীতাদেরঅসংখ্য শাখা-প্রশাখা মিলিত হয়েছেউজানের দেশগুলো(ভারত, নেপাল, ভুটান) থেকে অতিরিক্ত পানি নেমে এলে তাবাংলাদেশে জমা হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে

বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট কারণ কিংবা পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্টবন্যায় যে ক্ষতি হয়, প্রস্তাবিত সীমান্ত সুরক্ষা করনীয় কার্যক্রমবাস্তবায়নের মাধ্যমে তা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভববিশেষকরে অপরিকল্পিত পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তবর্তীএলাকা কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যার তীব্রতা কমিয়েআনা যেতে পারে

এছাড়া উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উজানেরপানিপ্রবাহের সুষ্ট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রমেঘনা সহ সংশ্লিষ্ট নদী ব্যবস্থার উন্নয়নএসব উদ্যোগগ্রহণের মাধ্যমে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভবএরফলে অতিরিক্ত পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারবে এবং বন্যারঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে

বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচি যথাযথভাবেবাস্তবায়িত হলে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার ক্ষয়ক্ষতিঝুঁকিআরও কমে আসবে বলে আশা করা যায়

প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার, নির্দিষ্ট দূরত্বপরপর লাইট স্থাপন এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রিতপানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাতে প্রাকৃতিকপানিপ্রবাহ ব্যাহত না হয় এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তাও বজায়থাকে

প্রস্তাবিত সীমানা প্রাচীর থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরত্বে কমপক্ষে১৫ ফুট গভীর এবং ১০০ ফুট প্রশস্ত একটি খাল খনন করাযেতে পারেখালের পাড় যাতে ভেঙ্গে না যায়, সে জন্য তামজবুতভাবে নির্মাণসংরক্ষণ করতে হবেখালটিবঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হলেঅতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, যা বন্যানিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে

এই বৃহকার্যক্রমের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে দেশের সেনাবাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায়২৫ হাজার সদস্যকে বাছাই করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যনির্মাণকাজে যুক্ত করা যেতে পারেপাশাপাশি উদ্যমীদেশপ্রেমিক তরুণদের মধ্য থেকে নীতিমালা অনুসরণ করেআরও ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে

উক্ত দুই শ্রেণির জনবল নির্ধারিত কাজ সফলভাবে সম্পন্নকরতে পারলে তাঁদের পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র প্রদান করাযেতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেসহায়ক হবেবাহিনীর সদস্যদের জন্য এটি পদোন্নতি বাবেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেকাজশুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের ১–২ দিনের প্রাথমিকধারণামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজনএভাবে মোট প্রায়৫০ হাজার জনবল এই প্রকল্পের প্রধান কর্মশক্তি হিসেবে কাজকরবেপ্রয়োজনে প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন জনবলঅন্তর্ভুক্ত করে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেতে পারেএই প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিকলক্ষ ৭২ হাজার কোটিটাকা ব্যয় হতে পারে

সমগ্র সীমান্তজুড়ে প্রতি কিলোমিটারে ৫টি ভূমিহীন পরিবারকেপুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারেখালের পাশ থেকেপ্রায় ২০ ফুট ফাঁকা রেখে ৫০ ফুট প্রশস্ত এলাকায় ২৫ বছরেরঅস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করা যেতেপারেএভাবে প্রায় ২২ হাজার পরিবার পুনর্বাসনের সুযোগপাবে

প্রতি ১০টি পরিবার নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা যেতে পারে, যেখানেসদস্যের একটি কমিটি থাকবেএকজন সভাপতি, একজন সচিবএকজন কোষাধ্যক্ষ; বাকিরা সাধারণ সদস্যহিসেবে যুক্ত থাকবেএই সমিতিগুলোর দায়িত্ব হবে নির্দিষ্টএলাকার (প্রায়কিলোমিটার) সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কেবিজিবিকে তথ্য সরবরাহ করা এবং প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্টব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেতোলা

সরকার প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে প্রায়লক্ষ টাকাঋণ সহায়তা দিতে পারে, যা দিয়ে তারা আবাসন নির্মাণেরপাশাপাশি কৃষি, মৎস্যচাষপশুপালন কার্যক্রম শুরু করতেপারবেএই ঋণ ১০ বছরের মধ্যে মাত্র ৫% সুদে ১২০ কিস্তিতেপরিশোধের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ২২ হাজার পরিবারেরএই পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৫ হাজারকোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল প্রয়োজন হতে পারে

পুনর্বাসিত পরিবারগুলো বরাদ্দকৃত জমিখালের যথাযথব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করবেপ্রতিটি পরিবার খালসহআনুমানিক ২৫০ ফুট প্রস্থ এবং ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জমিব্যবহার করতে পারবেতারা খালে মাছ চাষ, হাঁস পালন এবংজমিতে মুরগি, গরু বা ছাগল পালন করতে পারবেপাশাপাশি ধান, শাকসবজিঅন্যান্য ফসল উৎপাদনেরমাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেপারবে

প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর সীমান্ত এলাকায় ২০ সদস্যবিশিষ্টএকটি বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারেক্যাম্পেরদায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০টি সমিতিরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেনএসব বৈঠকের মাধ্যমেসমিতিগুলোর কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহমূল্যায়ন করা সম্ভব হবেপুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড, যারা সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে

সরকার চাইলে ধাপে ধাপে ১০ বছরের মধ্যে এই সীমান্ত সুরক্ষাকার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেএতে দেশের নাগরিকরাস্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং সীমান্ত রক্ষায় সহযোগীশক্তিতে পরিণত হবেঅবৈধ যাতায়াত হ্রাস পাবে, চোরাচালানক্ষতিকর পণ্যের প্রবেশ কমবে এবংনাগরিকদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবেঅর্থনৈতিককর্মকাণ্ড বাড়বে, মানুষ আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবংবন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকি কমবে

সর্বোপরি, একটি সুপরিকল্পিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেসবার আগে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবংপ্রায় ২২ হাজার ভূমিহীন পরিবারের জীবন-জীবিকা টেকসইভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবেএর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটিনিরাপদ, দারিদ্র্যমুক্তমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে আরওদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে

সামগ্রিকভাবে, ইহার ফলে সুপরিকল্পিতসমন্বিত সীমান্তব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শুধু ২২,০০০ ভূমিহীন পরিবারের জন্যইনয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্যও টেকসই জীবিকা নিশ্চিতকরার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে একযুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবেসীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরা, সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকঅর্থনৈতিক সুযোগ প্রসারের মাধ্যমেধরনের একটি উদ্যোগদীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্থিতিশীলতাসহনশীলতায় অবদানরাখতে পারবেএভাবে বাংলাদেশ আরও বেশিআত্মবিশ্বাসের সাথে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, দারিদ্র্যমুক্তমর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে