ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“তুমি আছো বলেই সব সুন্দর”–এস এম কামরুল হাসানের কবিতা

সাংবাদিক

তুমি আছো বলেই সব সুন্দর ——————————————

জানো আজ কাশফুলের বাগানে গিয়েছিলাম। সাদা সাদা ফুলে পুরো মাঠ ভরে আছে। বাতাসে দুলছে,রোদে ঝিকমিক করছে। কিন্তু আমার একদম ভালো লাগেনি। কারণ তুমি যখন সাদা শাড়ি পরে আমার সামনে এসে বসো, আমার কাছে মনে হয় হাজারটা কাশফুল এক করে দিলেও তোমার পায়ের নখের সমান হবে না।

ওরা নিষ্প্রাণ,আর তুমি? তোমার শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জীবন। ওরা বাতাসে দোলে,আর তুমি? তোমার নিঃশ্বাসে আমার দুনিয়া দোলে। তাই কাশফুল দেখে আর কি হবে যখন আমার কাশফুলই আমার পাশে নেই।

তারপর নদীর পাড়ে গেলাম। ঢেউগুলা কুলে এসে আছড়ে পড়ছে। শব্দ করে ভাঙছে,আবার ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম “ও ঢেউ, তোমরা এমন করো কেন? নিজেরাই ভাঙো,নিজেরাই আবার চর জাগাও। আশা দাও,আবার নিরাশ করো। এমন কেন?”

নদীর ঢেউ আমাকে বলল “আমরা যেভাবে ভাঙি, ঠিক একই ভাবে আশাও জাগিয়ে রাখি। ভাঙা ছাড়া গড়া হয় না। আছড়ে না পড়লে কূল ভরে না। আমরা চলে যাই, কারণ জানি আবার ফিরে আসবো। এই ফিরে আসার বিশ্বাসটুকুই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।”

শুনে আমি হাসলাম- বললাম “তাহলে তো তুমি আমার মতোই।” আমিও তো রোজ ভাঙি। তোমার একটা কথা না শুনে ভাঙি। তোমার একটা দেখা না পেয়ে ভাঙি। আবার পরের দিন সকালে “হয়তো আজ আসবে” এই আশা নিয়ে আবার গড়ে উঠি।

আমিও নদীর মতো- তোমার জন্য আছড়ে পড়ি, তোমার জন্য চর জাগাই। তুমি না থাকলে আমি মরা নদী। তুমি থাকলে আমি বর্ষার নদী— উপচে পড়া,টইটম্বুর।

তাই হে কাশফুল, তোমরা সাদা হয়ে থেকো। হে নদী, তুমি বইতে থাকো। কিন্তু মনে রেখো, আমার প্রিয়া আছে বলেই তোমরা এত সুন্দর লাগো। ওর শাড়ির সাদা তোমাদের সব সাদাকে হার মানায়। ওর মনের ঢেউ তোমাদের সব ঢেউকে থামিয়ে দেয়।

আর যদি ও কোনোদিন বলে “আমি এসেছি” সেদিন আমি কাশফুলের মাঝে বসে নদীর কূলে পা ডুবিয়ে শুধু একটা কথাই বলবো “দেখেছো?ভাঙতে ভাঙতে শেষমেশ কূল ভরেই গেল”।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৪ Time View

“তুমি আছো বলেই সব সুন্দর”–এস এম কামরুল হাসানের কবিতা

আপডেটের সময় : ০৬:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুমি আছো বলেই সব সুন্দর ——————————————

জানো আজ কাশফুলের বাগানে গিয়েছিলাম। সাদা সাদা ফুলে পুরো মাঠ ভরে আছে। বাতাসে দুলছে,রোদে ঝিকমিক করছে। কিন্তু আমার একদম ভালো লাগেনি। কারণ তুমি যখন সাদা শাড়ি পরে আমার সামনে এসে বসো, আমার কাছে মনে হয় হাজারটা কাশফুল এক করে দিলেও তোমার পায়ের নখের সমান হবে না।

ওরা নিষ্প্রাণ,আর তুমি? তোমার শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জীবন। ওরা বাতাসে দোলে,আর তুমি? তোমার নিঃশ্বাসে আমার দুনিয়া দোলে। তাই কাশফুল দেখে আর কি হবে যখন আমার কাশফুলই আমার পাশে নেই।

তারপর নদীর পাড়ে গেলাম। ঢেউগুলা কুলে এসে আছড়ে পড়ছে। শব্দ করে ভাঙছে,আবার ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম “ও ঢেউ, তোমরা এমন করো কেন? নিজেরাই ভাঙো,নিজেরাই আবার চর জাগাও। আশা দাও,আবার নিরাশ করো। এমন কেন?”

নদীর ঢেউ আমাকে বলল “আমরা যেভাবে ভাঙি, ঠিক একই ভাবে আশাও জাগিয়ে রাখি। ভাঙা ছাড়া গড়া হয় না। আছড়ে না পড়লে কূল ভরে না। আমরা চলে যাই, কারণ জানি আবার ফিরে আসবো। এই ফিরে আসার বিশ্বাসটুকুই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।”

শুনে আমি হাসলাম- বললাম “তাহলে তো তুমি আমার মতোই।” আমিও তো রোজ ভাঙি। তোমার একটা কথা না শুনে ভাঙি। তোমার একটা দেখা না পেয়ে ভাঙি। আবার পরের দিন সকালে “হয়তো আজ আসবে” এই আশা নিয়ে আবার গড়ে উঠি।

আমিও নদীর মতো- তোমার জন্য আছড়ে পড়ি, তোমার জন্য চর জাগাই। তুমি না থাকলে আমি মরা নদী। তুমি থাকলে আমি বর্ষার নদী— উপচে পড়া,টইটম্বুর।

তাই হে কাশফুল, তোমরা সাদা হয়ে থেকো। হে নদী, তুমি বইতে থাকো। কিন্তু মনে রেখো, আমার প্রিয়া আছে বলেই তোমরা এত সুন্দর লাগো। ওর শাড়ির সাদা তোমাদের সব সাদাকে হার মানায়। ওর মনের ঢেউ তোমাদের সব ঢেউকে থামিয়ে দেয়।

আর যদি ও কোনোদিন বলে “আমি এসেছি” সেদিন আমি কাশফুলের মাঝে বসে নদীর কূলে পা ডুবিয়ে শুধু একটা কথাই বলবো “দেখেছো?ভাঙতে ভাঙতে শেষমেশ কূল ভরেই গেল”।