ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার আর নেই শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর এল এল উজ্জলের আর নেই! কলাপাড়ায় মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন, ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা সুবিদপুর ওল্ড স্কীম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন ও দাতা সদস্য মাহবুব মোল্লা মিথ্যা অপপ্রচার, হুমকি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা মেধা হবে জনপ্রশাসনে পদায়ন-বদলির নীতি: প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী সিলেটে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

রনবীর রায় রাজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
৫০৮ Time View

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।