ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি প্রশাসন

সাংবাদিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এ অবস্থানের কথা জানায়।

প্রশাসনের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের মর্যাদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি সেই ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, সংগ্রহশালায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাকসুর ‘নির্ভীক জুলাই’ নিয়েও আপত্তি
ডাকসু সংগ্রহশালার পাশাপাশি ডাকসুর আরও কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রশাসনের অভিযোগ, ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের আগে সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Ordinances and Regulations-এর Chapter XIV-এর ধারা ৪-এর নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এ কারণে অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ডাকসুর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট নিয়েও আপত্তি
শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তাই অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।

প্রশাসনের দাবি, ডাকসুর চালু করা ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল কোনো কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

প্রশাসনের ভাষ্য, ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ কিংবা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি প্রশাসন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এ অবস্থানের কথা জানায়।

প্রশাসনের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের মর্যাদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি সেই ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, সংগ্রহশালায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাকসুর ‘নির্ভীক জুলাই’ নিয়েও আপত্তি
ডাকসু সংগ্রহশালার পাশাপাশি ডাকসুর আরও কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রশাসনের অভিযোগ, ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের আগে সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Ordinances and Regulations-এর Chapter XIV-এর ধারা ৪-এর নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এ কারণে অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ডাকসুর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট নিয়েও আপত্তি
শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তাই অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।

প্রশাসনের দাবি, ডাকসুর চালু করা ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল কোনো কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

প্রশাসনের ভাষ্য, ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ কিংবা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।