ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন ফরিদগঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে : হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা: প্রধানমন্ত্রী জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর উত্তর আহবায়ক কমিটির অনুমোদন বাকলিয়ায় সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া পাথরে গুরুতর আহত সাংবাদিক, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়: ডিএসসিসি প্রশাসক লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের আবিষ্কৃত ‘বঙ্গভ্যাক্স’ পেল মার্কিন পেটেন্ট

সাংবাদিক

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের তৈরি কোভিড-১৯ এমআরএনএ টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মার্কিন পেটেন্ট পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ওষুধ সংক্রান্ত পেটেন্টের এই অর্জনকেই বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে গ্লোব বায়োটেক।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি এ খবর নিশ্চিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় যখন মানুষ বিপর্যস্ত, তখন গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানী কাকন নাগ ও নাজনীন সুলতানার তত্ত্বাবধানে ‘কোভিড-১৯’ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা শুরু হয়। এ গবেষণার ফলশ্রুতিতে তৈরি টিকাটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) কর্তৃক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পায়।

টিকাটির টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকুয়েন্স ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ডেটাবেসে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এক ডোজের এই এমআরএনএ টিকার গবেষণাপত্র মার্কিন মেডিকেল জার্নাল ‘ভ্যাকসিন’-এ এবং টিকা উৎপাদনের মৌলিক প্রযুক্তি যুক্তরাজ্যের নেচার জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২০ সালে গ্লোব বায়োটেকের এই টিকাকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বানরের উপর ট্রায়ালে এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে বানরের উপর টিকার প্রথম ট্রায়াল।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ অব কোম্পানিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’ ২০১৫ সালে ক্যান্সার, আথ্রাইটিস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চরক্তচাপ, অটোইমিউন ডিজিজসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ের জন্য আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

পেটেন্টের গুরুত্ব

গ্লোব বায়োটেক জানিয়েছে, এটি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত মৌলিক প্রযুক্তির এমআরএনএ টিকা। ন্যানোটেকনোলজির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই টিকা এক ডোজেই কার্যকর এবং বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগের আধুনিক ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।

এটি বাংলাদেশের চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পেটেন্টের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, নিরাপদ ও কার্যকরী টিকা উৎপাদন করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। এছাড়া ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টিকা আবিষ্কারের এই পেটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৮:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৭৫৬ Time View

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের আবিষ্কৃত ‘বঙ্গভ্যাক্স’ পেল মার্কিন পেটেন্ট

আপডেটের সময় : ০৮:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের তৈরি কোভিড-১৯ এমআরএনএ টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মার্কিন পেটেন্ট পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ওষুধ সংক্রান্ত পেটেন্টের এই অর্জনকেই বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে গ্লোব বায়োটেক।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি এ খবর নিশ্চিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় যখন মানুষ বিপর্যস্ত, তখন গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানী কাকন নাগ ও নাজনীন সুলতানার তত্ত্বাবধানে ‘কোভিড-১৯’ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা শুরু হয়। এ গবেষণার ফলশ্রুতিতে তৈরি টিকাটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) কর্তৃক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পায়।

টিকাটির টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকুয়েন্স ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ডেটাবেসে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এক ডোজের এই এমআরএনএ টিকার গবেষণাপত্র মার্কিন মেডিকেল জার্নাল ‘ভ্যাকসিন’-এ এবং টিকা উৎপাদনের মৌলিক প্রযুক্তি যুক্তরাজ্যের নেচার জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২০ সালে গ্লোব বায়োটেকের এই টিকাকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বানরের উপর ট্রায়ালে এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে বানরের উপর টিকার প্রথম ট্রায়াল।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ অব কোম্পানিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’ ২০১৫ সালে ক্যান্সার, আথ্রাইটিস, রক্তস্বল্পতা, উচ্চরক্তচাপ, অটোইমিউন ডিজিজসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ের জন্য আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

পেটেন্টের গুরুত্ব

গ্লোব বায়োটেক জানিয়েছে, এটি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত মৌলিক প্রযুক্তির এমআরএনএ টিকা। ন্যানোটেকনোলজির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই টিকা এক ডোজেই কার্যকর এবং বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগের আধুনিক ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।

এটি বাংলাদেশের চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পেটেন্টের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, নিরাপদ ও কার্যকরী টিকা উৎপাদন করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। এছাড়া ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টিকা আবিষ্কারের এই পেটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।