ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই, সদস্যসচিব জুবায়ের বাবু গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগ, পরিচালকের বিরুদ্ধে আচরণগত প্রশ্নও: বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি বিতর্কে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ফ্রেশার্স ওরিয়েন্টেশন সামার ২০২৬ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জের সুবিদপুর ওল্ড স্কীম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পেল নতুন সভাপতি সাংবাদিক মনিরের আর্থিক সহায়তা প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’-এর রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়

মোহাম্মদপুরে ছিনতাই, দায়িত্বে গাফিলতিতে ৪ পুলিশ ক্লোজড

সাংবাদিক

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

ক্লোজড হওয়া সদস্যরা হলেন এসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই আনারুল, এবং কনস্টেবল মাজেদুর রহমান ও মো. নুরুন্নবী।

পুলিশ জানায়, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন তিন ছিনতাইকারী, ইউসুফ, সিয়াম ও জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ভুক্তভোগী আহমাদ ওয়াদুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরে তিন রাস্তার মোড়ে তার ওপর ছিনতাইকারীরা হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। চাপাতি দিয়ে আঘাতও করে।

ঘটনার পরপরই তিনি ও তার স্ত্রী মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে, ডিউটি অফিসার এসআই জসিম উদ্দিন এবং অপর এক সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

অভিযোগপত্র লেখার জন্য কলম না দেওয়া, অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনীহা—এসবই অভিযোগে উঠে আসে।

ওসি ইফতেখার হাসানের সঙ্গেও দেখা করতে গেলে তিনি ভুক্তভোগীকে বলেন, “আমি নিজেই এত কম দামি ফোন ব্যবহার করি, আপনি এত দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই তো হবেই!”

পরবর্তীতে এএসআই আনারুল ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হলেও সেখানে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করার পরও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচিত হলে পুলিশ প্রশাসন দায়ী চার সদস্যকে ক্লোজড করে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান বলেন, “তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
৭৩০ Time View

মোহাম্মদপুরে ছিনতাই, দায়িত্বে গাফিলতিতে ৪ পুলিশ ক্লোজড

আপডেটের সময় : ০১:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

ক্লোজড হওয়া সদস্যরা হলেন এসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই আনারুল, এবং কনস্টেবল মাজেদুর রহমান ও মো. নুরুন্নবী।

পুলিশ জানায়, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন তিন ছিনতাইকারী, ইউসুফ, সিয়াম ও জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ভুক্তভোগী আহমাদ ওয়াদুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরে তিন রাস্তার মোড়ে তার ওপর ছিনতাইকারীরা হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। চাপাতি দিয়ে আঘাতও করে।

ঘটনার পরপরই তিনি ও তার স্ত্রী মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে, ডিউটি অফিসার এসআই জসিম উদ্দিন এবং অপর এক সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

অভিযোগপত্র লেখার জন্য কলম না দেওয়া, অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনীহা—এসবই অভিযোগে উঠে আসে।

ওসি ইফতেখার হাসানের সঙ্গেও দেখা করতে গেলে তিনি ভুক্তভোগীকে বলেন, “আমি নিজেই এত কম দামি ফোন ব্যবহার করি, আপনি এত দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই তো হবেই!”

পরবর্তীতে এএসআই আনারুল ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হলেও সেখানে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করার পরও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচিত হলে পুলিশ প্রশাসন দায়ী চার সদস্যকে ক্লোজড করে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান বলেন, “তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”