রেকর্ড চুরমার করে ছক্কার বৃষ্টিতে অভিষেকের দ্রুততম সেঞ্চুরি
আফগানিস্তানের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠলেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে বাঁহাতি ব্যাটার দিল্লিতে ঝড় তুললেন। তাতে এলোমেলো হয়ে গেল রেকর্ড বই। মাত্র ৩০ বলে পূর্ণ করেছেন সেঞ্চুরি। যেখানে ছিল ৯টি চার ও ১০টি ছক্কা। ১৬ বলে ফিফটি করে পরের ১৪ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান মারকুটে ব্যাটার।
অভিষেক শর্মার এটি তৃতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এবং টেস্ট-খেলুড়ে কোনো দেশের ব্যাটারের করা এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। স্বীকৃত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা তৃতীয় দ্রুততম। স্বীকৃত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৭ বলে সেঞ্চুরি আছে এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের। ২৯ বলে মুহাম্মদ ফরহাদ করেছেন সেঞ্চুরি। এবার ৩০ বলে সেঞ্চুরি তুলে অভিষেক নিজের নাম তুললেন এলিট ক্লাবে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল সিকান্দার রাজার দখলে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটার সিকান্দার গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া ফিন অ্যালেন সমান বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
দিল্লিতে রুদ্ধমূর্তি ধারণ করা অভিষেক ৩০ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে রেকর্ড বই চুরমার করে ফেললেন। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০০ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫ রান করেছেন অভিষেক। দিল্লিতে আজ তার ইনিংসটি থামে ১০৮ রানে। ৩৪ বলে ৯ চার ও ১১ ছক্কায় খেলেন ইনিংসটি।
টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা রেকর্ড অভিষেকেরই দখলে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৩ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরের জায়গাটি নিজের দখলে আজ নিলেন তিনি। রোহিত, সানজু, তিলক ও ইশানের ১০ ছক্কাকে টপকে অভিষেকের ১১ ছক্কা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ভারতের হয়ে এর আগে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোহিত ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। রোহিতকে টপকে অভিষেক এবার শৃঙ্গে উঠলেন। ইনিংসের শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন অভিষেক। প্রথম ওভারে ফজল হক ফারুকীকে চার মেরে রানের খাতা খুলেন। দ্বিতীয় ওভারে আজমতউল্লাহ উমারজাইকে ছক্কা মেরে খুলেন ছক্কার খাতা। ওই ওভারে আরও একটি চার ও ছক্কা উড়ান ভারতীয় ওপেনার।
তৃতীয় ওভারে ফজল হক ফারুকি ২৩ রান দেন। অভিষেক দুইটি করে চার ও ছক্কা উড়ান এই ওভারে। পঞ্চম ওভারে মোহাম্মদ নবী বিলিয়ে আসেন ২৯ রান। যেখানে অভিষেকের ছিল ১৬ রান। দুইটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান তিনি। পাওয়ার প্লে’তে ভারত ১০০ রানে পৌঁছে যায়। অভিষেক পূরণ করে ফেলেন নিজের ফিফটি। এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকেন। ৩০ বলে পাওয়া সেঞ্চুরিতে বাউন্ডারি থেকে অভিষেক আদায় করেন ৯৬ রান (৯ চার ও ১০ ছক্কা)। বাকি ৪ রানের মধ্যে ছিল দুইটি সিঙ্গেল, একটি ডাবল।
সেঞ্চুরির ল্যান্ডমার্কে পৌঁছার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি অভিষেক। রশিদ খানের বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তাতে থামে দিল্লিতে অভিষেকের বিধ্বংসী ইনিংস।

























বন্ধ শিল্প-সেবা চালু করতে ৭% সুদে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ