বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই আদালতে কলিমউল্লাহ-কে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ’র সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহ-কে গ্রেফতার করে। সেদিনই আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির আন্দোলনে অংশ নেন। গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় একটি গুলি সাব্বিরের বাম হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
স্থানীয়রা আহত সাব্বিরকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এ ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে কলিমউল্লাহ’র জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।
কলিমউল্লাহর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা জানান, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তার মক্কেলকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দিয়ে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে তার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।



























