অনলাইন জুয়ার অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট; ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি।।
অনলাইন জুয়ার সর্বনাশা ফাঁদে পড়ে ভিকুনিয়া এলাকার স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে নিজের ৩ কাঠা জমি বিক্রি করেও শেষ রক্ষা হয়নি; কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় লাখ টাকার পুরোটাই হেরে গেছেন তিনি। অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ীর নাম পারভেজ খান (পিতা: মৃত রব্বানী খান)।।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুয়ার এই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনে সরাসরি সহায়তা করেছে পাশের এক বিকাশ এজেন্ট এবং এই চক্রের পেছনে মূল প্ররোচক হিসেবে জড়িত রয়েছে বোরহান নামের এক স্থানীয় যুবক।।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারভেজ খান ভিকুনিয়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তবে ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোপনে অনলাইন জুয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। জুয়ার নেশা এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে, টাকার ঘাটতি মেটাতে কিছুদিন আগে তিনি তার মালিকানাধীন ৩ কাঠা জমি বিক্রি করে দেন। জমি বিক্রির নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা তিনি ধাপে ধাপে অনলাইন জুয়ার সাইটে ঢালেন, যার পুরোটাই পরবর্তীতে খোয়া যায়।।
বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, পারভেজের দোকানের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বিকাশের দোকান। উক্ত বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমেই পারভেজ তার জুয়ার আইডিতে নিয়মিত টাকা রিচার্জ ও লেনদেন করতেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া অনলাইন জুয়ার মতো বেআইনি কাজে অর্থ লেনদেনে সহায়তা করায় উক্ত এজেন্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।।
সহযোগী বোরহান ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, পারভেজের এই জুয়ার জগতে যুক্ত হওয়ার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে ভিকুনিয়ারই বাসিন্দা বোরহান। পারভেজ ও বোরহান দুজনেই এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। তারা নিজেরা যেমন সর্বস্ব হারিয়েছে, তেমনই এলাকার অন্য যুবকদেরও এই অনৈতিক পথে টানার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।।
বর্তমানে পারভেজের জমি বিক্রি ও জুয়ায় সর্বস্ব হারানোর বিষয়টি পুরো ভিকুনিয়া এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মুরুব্বিদের দাবি—প্রশাসন যদি দ্রুত এসব অবৈধ অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট এবং এতে সহায়তাকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এলাকার আরও অনেক পরিবার এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।।












