ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, মিলছে ৯৮ কোটি ঘনফুট

সাংবাদিক

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট কাটিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির আভাস মিলেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। 

রাত ৯টার হিসাব অনুযায়ী, এলএনজি থেকে ৯৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের ১৬০ কোটি ঘনফুট যোগ হয়ে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি ঘনফুট। এতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বিশেষ করে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সরবরাহের হিসাবে দেখা যায়, সোমবার রাত ৮টায় দেশে মোট ২৩৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৭৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এক ঘণ্টা পরই এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৯৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছে।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। আগুনে টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়।

মেরামতের কাজ শেষে ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তবে টার্মিনাল সচল হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না আসায় সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহের বর্তমান বৃদ্ধি গ্যাসের চাপ সাময়িকভাবে উন্নত করতে পারে। তবে চাহিদার তুলনায় মোট সরবরাহ এখনও কম। ফলে সংকট একেবারে দূর করতে নিয়মিত এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা জরুরি।

এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে শিল্পের উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং আবাসিক গ্রাহকদের পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমদানি প্রক্রিয়ায় ফের কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৮ Time View

এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, মিলছে ৯৮ কোটি ঘনফুট

আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট কাটিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির আভাস মিলেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। 

রাত ৯টার হিসাব অনুযায়ী, এলএনজি থেকে ৯৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের ১৬০ কোটি ঘনফুট যোগ হয়ে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি ঘনফুট। এতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বিশেষ করে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সরবরাহের হিসাবে দেখা যায়, সোমবার রাত ৮টায় দেশে মোট ২৩৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৭৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এক ঘণ্টা পরই এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৯৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছে।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। আগুনে টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়।

মেরামতের কাজ শেষে ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তবে টার্মিনাল সচল হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না আসায় সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহের বর্তমান বৃদ্ধি গ্যাসের চাপ সাময়িকভাবে উন্নত করতে পারে। তবে চাহিদার তুলনায় মোট সরবরাহ এখনও কম। ফলে সংকট একেবারে দূর করতে নিয়মিত এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা জরুরি।

এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে শিল্পের উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং আবাসিক গ্রাহকদের পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমদানি প্রক্রিয়ায় ফের কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।