ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাড়ি ভাংচুর অগ্নিসংযোগ। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারল বাংলাদেশ নাম বদলে যাচ্ছে র‍্যাবের, সংসদে বিল ৪১ ব্যাংকের সিএসআরের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা একটি দল গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের পক্ষে নিতে চায়: রিজভী কম সিনেমা করেও যেভাবে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন এই বলিউড তারকারা লংমার্চে কমল গাড়ি, শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত নিরাপত্তা চায় জামায়াত-জোট এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’ রূপগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা সবুজ গ্রেপ্তার, ৭ হত্যা মামলাসহ ২৬ মামলার আসামি

নাম বদলে যাচ্ছে র‍্যাবের, সংসদে বিল

সাংবাদিক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মূলত র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। উত্থাপনের আগে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তারা সংসদীয় কমিটিতে দুই দিন বাদ দিয়ে কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। চার কর্মদিবস ঠিক করে সর্বসম্মতিতে বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল আগস্টের ৮ তারিখ ২০২৪। বিরোধী দলের চীফ হুইপ সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। আমি খুশি হতাম এই প্রস্তাবটা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এডভাইজরি বোর্ডে তিনি প্লেস করতেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-এর ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই তো হলো। এই র‍্যাব কিন্তু দায়িত্ব পালন করেছে। সেই ১৮ মাসে তাদের একবারও মনে হয়নি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বিলুপ্ত করার? তখন ১৩৩টার স্থলে ১৩৪টা হতো অধ্যাদেশ। সেই অধ্যাদেশ তাহলে আমরা প্রথম অধিবেশনে বিবেচনায় নিতাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল, জনপ্রত্যাশা ছিল র‍্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না, আমরা র‍্যাবটা বিলুপ্ত করছি। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটা এলিট ফোর্স দরকার। বর্তমানে যে সাইবার ক্রাইমগুলো হচ্ছে দেশে, সেটা ফাইট করার জন্য আমাদের যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার। সেটা আমরা করছি, সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটও আমরা একটা রেজ করব সামনে। প্রয়োজন হয়ে গিয়েছে। আমরা জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে ফাইট করার জন্য আমাদের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট দরকার হয়ে গিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিবেচনায়, আমরা এই র‍্যাবের সংগঠনটাকে বিলুপ্ত করে একটা এলিট ফোর্স রেজ করছি—যার নাম প্রস্তাব হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।

বিলে বলা হয়েছে— দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।’

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০১ Time View

নাম বদলে যাচ্ছে র‍্যাবের, সংসদে বিল

আপডেটের সময় : ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মূলত র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। উত্থাপনের আগে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তারা সংসদীয় কমিটিতে দুই দিন বাদ দিয়ে কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। চার কর্মদিবস ঠিক করে সর্বসম্মতিতে বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল আগস্টের ৮ তারিখ ২০২৪। বিরোধী দলের চীফ হুইপ সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। আমি খুশি হতাম এই প্রস্তাবটা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এডভাইজরি বোর্ডে তিনি প্লেস করতেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-এর ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই তো হলো। এই র‍্যাব কিন্তু দায়িত্ব পালন করেছে। সেই ১৮ মাসে তাদের একবারও মনে হয়নি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বিলুপ্ত করার? তখন ১৩৩টার স্থলে ১৩৪টা হতো অধ্যাদেশ। সেই অধ্যাদেশ তাহলে আমরা প্রথম অধিবেশনে বিবেচনায় নিতাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল, জনপ্রত্যাশা ছিল র‍্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না, আমরা র‍্যাবটা বিলুপ্ত করছি। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটা এলিট ফোর্স দরকার। বর্তমানে যে সাইবার ক্রাইমগুলো হচ্ছে দেশে, সেটা ফাইট করার জন্য আমাদের যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার। সেটা আমরা করছি, সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটও আমরা একটা রেজ করব সামনে। প্রয়োজন হয়ে গিয়েছে। আমরা জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে ফাইট করার জন্য আমাদের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট দরকার হয়ে গিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিবেচনায়, আমরা এই র‍্যাবের সংগঠনটাকে বিলুপ্ত করে একটা এলিট ফোর্স রেজ করছি—যার নাম প্রস্তাব হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।

বিলে বলা হয়েছে— দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।’

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।