ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ‘একক এখতিয়ার নেই’: জাহেদ উর রহমান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম স্থগিত করলেন মার্কিন আদালত এবার ১৬৭ স্কোর পেয়ে তালিকায় ঢাকা বিশ্বের চতুর্থ আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ ট্রাম্পের ‘মেইল ব্যালট’ বিধিনিষেধ খারিজ করলেন সুপ্রিম কোর্ট ৫৯ নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোল হজম বাংলাদেশের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ‘একক এখতিয়ার নেই’: জাহেদ উর রহমান

সাংবাদিক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার মোটামুটি একটি টাইমলাইন জানিয়েছে। সেই সময়সূচি অনুসরণ করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন হবে-এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার ‘কিছুই জানে না’।

এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য নির্বাচন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী যেহেতু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনও তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক ধরে নিতে হবে। সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি ঘোষিত সময়সূচিকে কেন্দ্র করে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা দূরত্ব হিসেবে দেখার কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি আলোচনা সাপেক্ষে এগিয়ে নেওয়া, পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেমন হবে-এ প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক। প্রার্থীরা নিজেদের ব্যক্তি পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। এবার কোনো দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে কে কোন দলের, সেটি মুখ্য বিষয় হবে না।

উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে অতীতের একতরফা পরিবেশের পরিবর্তে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:১৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ‘একক এখতিয়ার নেই’: জাহেদ উর রহমান

আপডেটের সময় : ১০:১৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার মোটামুটি একটি টাইমলাইন জানিয়েছে। সেই সময়সূচি অনুসরণ করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন হবে-এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার ‘কিছুই জানে না’।

এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য নির্বাচন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী যেহেতু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনও তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক ধরে নিতে হবে। সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি ঘোষিত সময়সূচিকে কেন্দ্র করে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা দূরত্ব হিসেবে দেখার কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি আলোচনা সাপেক্ষে এগিয়ে নেওয়া, পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেমন হবে-এ প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক। প্রার্থীরা নিজেদের ব্যক্তি পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। এবার কোনো দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে কে কোন দলের, সেটি মুখ্য বিষয় হবে না।

উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে অতীতের একতরফা পরিবেশের পরিবর্তে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।