চীনা প্রেমিক টাঙ্গাইলে এলেন বিয়ে করতে, আপত্তিতে ফিরলেন ঢাকায়
অনলাইনে পরিচয়, এরপর প্রেম। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ নামের একটি অ্যাপে নিয়মিত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চীন থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছুটে আসেন ডং লিয়াং (৪১) নামে এক যুবক। তবে প্রেমিকার পরিবার ও স্থানীয়দের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সখীপুর উপজেলার বাগবেড় গ্রামে প্রেমিকা আশিতার (২৪) বাড়িতে আসেন ডং লিয়াং। চীনা যুবককে দেখতে সেখানে ভিড় করেন শত শত মানুষ। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগবেড় গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজমত আলীর মেয়ে আশিতার সঙ্গে ডং লিয়াংয়ের প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে অনলাইনে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। লিয়াং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে আশিতার পরিবার ও স্থানীয়রা বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি। পরে শনিবার মধ্যরাতে পরিবার ও স্থানীয়দের বৈঠক হয়। সেখানে আশিতার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শেষে চীনা যুবককে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আশিতা বলেন, দুজনের পরামর্শ ও ইচ্ছেতেই লিয়াং তাকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি ডিভোর্সি এবং তার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। লিয়াং তাকে বিয়ে করে চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তার সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই লিয়াং বাংলাদেশে আসার বিষয়টি তাকে মেসেজের মাধ্যমে জানান।
ডং লিয়াং বলেন, তাকে বিয়ে করতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি একবার বিয়ে করেছিলেন। দুজনের ইচ্ছেতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আশিতার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন আনন্দ বলেন, ‘আশিতা যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়, সে জন্য পরিবার ও এলাকাবাসী বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে চীনা যুবককে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
সখীপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, স্থানীয়রা চীনা যুবকের বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই যুবককে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
























চীনা প্রেমিক টাঙ্গাইলে এলেন বিয়ে করতে, আপত্তিতে ফিরলেন ঢাকায়